আত্মহত্যায় সাহায্য করতে ৮ তরুণীকে হত্যা, টুইটার কিলারের মৃত্যুদণ্ড

 অনলাইন ডেস্ক 
১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:০৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
জাপান
ছবি: সংগৃহীত

আত্মহত্যায় সহযোগিতার কথা বলে ৮ তরুণী ও এক পুরুষকে গলা টিপে হত্যার দায়ে জাপানে টুইটার কিলার খ্যাত তরুণকে মঙ্গলবার মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।

তাকাহিরো শিরাইসি নামে ৩০ বছরের ওই তরুণকে ২০১৭ সালে গ্রেফতার করার পর অনেকেই তাকে টুইটার কিলার বলে আখ্যায়িত করেন। 

২০১৭ সালে তাকাহিরো শিরাইসির ফ্লাটে তল্লাশি চালিয়ে বেশ কয়েকজন মানুষের শরীরের অংশ বিশেষ উদ্ধার করা হয়। শিরাইসি তার শিকারদের হত্যা ও টুকরো টুকরো করার কথা স্বীকার করে। হত্যার শিকার প্রায় সবার সঙ্গেই সে সামাজিক যোগাযোগের প্লাটফর্মে যোগাযোগ করে। নিহতদের বয়য় ১৫ থেকে ২৬ বছরের মধ্যে। এই সিরিয়াল হত্যাকাণ্ড সামনে আসার পর অনলাইনে কিভাবে আত্মহত্যা নিয়ে আলোচনা চলছে তা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।

হত্যার শিকার সবাইকে টুইটারে মৃত্যুর জন্য সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তার অ্যাপার্টমেন্টে আমন্ত্রণ জানানো হত। আবার কোনও কোনও ক্ষেত্রে তাদের সঙ্গে নিজেও মারা যাবে বলে জানাত। এভাবে ২০১৭ সালের আগস্ট ও অক্টোবরে আট নারী ও এক পুরুষকে নিজ বাড়িতে এনে গলা টিপে হত্যা করে তাদের দেহ টুকরো টুকরো করে ফেলে।

উন্নত দেশগুলোর যে কয়েকটিতে এখনও সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড বহাল রয়েছে তার মধ্যে জাপান অন্যতম। দেশটির বহু নাগরিক এখনও মৃত্যুদণ্ড সমর্থন করে। 

পাঁচ মাস ধরে তার মানসিক পরীক্ষার পর ২০১৮ সালে শিরাইসি তার বিরুদ্ধে আনা সব দোষ স্বীকার করেন।   
মৃত্যুদণ্ডের পর অভিযুক্ত শিরাইসি রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন না বলে জানিয়েছেন। 

ওই বছরের হ্যালোউইন উৎসবের সময় পুলিশ টোকিওর কাছে জামা শহরে শিরাইসির ফ্লাটে দেহাবশেষ আবিষ্কার করলে এই ধারাবাহিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনা সামনে আসে। জাপানের সংবাদমাধ্যম বাড়িটিকে ভূতের বাড়ি আখ্যা দেয়। বাড়িটিতে নয়টি মাথা, বেশ কিছু হাত ও পায়ের হাড় পাওয়া যায়।

সূত্র: বিবিসি ও ইয়েনি শাফাক
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন