কাতারে বিভিন্ন সংকটে প্রবাসীদের পাশে দূতাবাস

 কাজী শামীম,  কাতার থেকে 
০৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংকটের শেষ নেই। এছাড়া বিশ্বের নানা দেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোতেই সেবা বঞ্চনা ও হয়রানি নিয়ে যখন সমালোচনা হয় তখন মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারে অবস্থিত  বাংলাদেশ দূতাবাস প্রবাসীদের সেবা প্রদানে পুরোপুরি ব্যাতিক্রম। 

প্রবাসীদের সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতার কবলে পড়তে হয় না। করোনা মহামারীর কারণে অনলাইন সেবার মান বেড়েছে আরও বহুগুণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন আবেদন। 

কাতারে কভিড-১৯ এর প্রাদুর্ভাব কমতে শুরু করায় রাজধানী দোহায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসে কর্মচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৪ টা পর্যন্ত পুরোদমে চলে প্রবাসীদের সেবা প্রদান। কেউ আসেন পাসপোর্ট নবায়ন বা নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করতে। 

সেখানে উপচেপড়া ভীড় দেখা যায় না। যার কারণ, সপ্তাহের ছুটির দিন শুক্রবারে রাজধানী দোহার বাহিরে বিভিন্ন বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকায় মোবাইল পাসপোর্ট সেবা প্রদান করে বাংলাদেশ দূতাবাস। এজন্য দূর থেকে কাউকে দূতাবাসে এসে ভিড় জমাতে হয়না। 

দূতাবাসে নবায়ন করা নতুন পাসপোর্ট গ্রহণ করতে আসা চট্টগ্রাম জেলার মো. তারেক বলেন, এত অল্প দিনে পাসপোর্ট হাতে পাব ভাবতে পারিনি। এক মাস ২৬ দিনে আমার নতুন পাসপোর্ট হাতে পেয়েছি। যখন পাসপোর্ট নবায়ন করতে এখানে আসি তখনো দেখেছি তেমন ভীড় ছিল না।

এছাড়া প্রবাসী বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুকালীন কোম্পানি থেকে পাওনা ক্ষতিপূরণ এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে দেশে লাশ হস্তান্তরে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করে দূতাবাস।

সবাই যখন স্বীকার করে বলে, প্রবাসীরা দেশের অর্থনীতি সচল রাখছে তার বাস্তবে প্রবাসীদের মর্যাদা দেয়ার চেষ্টা করে কাতারস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। তেমনিভাবে দূতাবাসে নিয়মিত ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানাতেও  আসেন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশিরা।

কভিড-১৯ এ দেশে ছুটিতে গিয়ে আটকে পড়া প্রবাসীদের রি-এন্ট্রি পারমিট ও কাতারে অবস্থানরত প্রবাসীদের স্পন্সরশীপ পরিবর্তনের অনুমোদন পেয়ে অনেক প্রবাসী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বার্তা শেয়ার করেন।

সোমবার সকালে ১৮ জন যুবক ফুল হাতে উপস্থিত হন দূতাবাসে। তারা জানান, সফর জেল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। সাধারণত এই জেলখানা থেকে কোনো আসামি ফিরে আসার সম্ভাবনা খুবই কম দেখা যায়। এই জেলখানা থেকে নির্দিষ্ট একটি সময় কয়েদীদের নিজ দেশে পাঠিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু তারা অনেকে মুক্ত হয়েছেন। তাই দূতাবাসের রাষ্ট্রদূত মো. জসীম উদ্দিনসহ দূতাবাসের শ্রম কাউন্সিলর ড. মুস্তাফিজুর রহমানকে কৃতজ্ঞতা জানাতে তারা দূতাবাসে এসেছেন।

এসময় দূতাবাসের হলরুমে প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে ফুলেল শুভেচ্ছা গ্রহণ শেষে শ্রম কাউন্সিলর ড. মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, কাতারে বিভিন্ন সংকটে প্রবাসীদের পাসে দূতাবাস গুরুত্ব দিয়ে প্রবাসীদের সেবা প্রদান করছে। 
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন