আবারও আগের অবস্থায় ফিরে যাচ্ছে কাতার

 অনলাইন ডেস্ক 
০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৩৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন মধ্যপ্রাচ্যের কয়েকটি দেশের সঙ্গে কাতারের বিরোধের অবসান ঘটতে চলছে। সৌদি আরবসহ ওই দেশগুলো প্রায় তিন বছর আগে কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করেছিল। একই সঙ্গে তারা আকাশপথ, জলপথ ও স্থলপথে অবরোধ আরোপ করে।

দৃশ্যত, সেই অবস্থার অবসান হতে চলেছে। বিভিন্ন সূত্র মতে, এ নিয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে আলোচনা হয়েছে। তারা সবাই সমস্যা সমাধানে রাজি হয়েছেন। এখন শুধু এ নিয়ে চুক্তি স্বাক্ষরের অপেক্ষা। তারপরই কাতার আবার আগের অবস্থায় ফিরে যাবে। খবর রয়টার্স।

গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাই জারেড কুশনারের সৌদি আরব ও কাতার সফরের পর দৃশ্যপট দ্রুত পাল্টাতে শুরু করে। বলা হয়, কাতার সঙ্কটের সমাধান করার মিশন নিয়ে কুশনার এই সফরে এসেছিলেন। এরপর কাতারের সঙ্গে বিরোধ নিষ্পত্তির অগ্রগতির ঘোষণা দেয় কুয়েত।

শুক্রবার কাতারের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সংকট শেষের দিকে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান। ইতালিতে ভূমধ্যসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে এক বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বাৎসরিক এই বৈঠকে প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান বলেন, ‘গত কয়েকদিনে আমরা বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্পন্ন করেছি।’

উল্লে­খ্য, সৌদি আরব, সংযুুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন ও মিশর যখন কাতারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে তাদের সঙ্গে সব রকম ব্যবসা ও কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে। বিভিন্ন অবরোধের কারণে তারা বিপাকে পড়ে যায়। তবে ওই সময় বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দেয় তুরস্ক। ওই সময় মধ্যপ্রাচ্যের এ দেশটিতে পণ্য রফতানি ও সামরিক সহায়তাসহ বিভিন্নমুখী সহায়তায় এগিয়ে আসেন তুর্কি প্রেসিডেন্ট এরদোগান। এর ফলে অবরোধ কার্যত কাতারকে খুব বেশি সমস্যায় ফেলেনি।

যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েতের মধ্যস্থতা

এদিকে সৌদি-কাতার সঙ্কট সমাধানের জন্য এখন পর্যন্ত কাজ করে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও কুয়েত।  তারই অংশ হিসেবে বুধবার দোহা’য় আলোচনায় বসেন জারেড কুশনার। তিনি বৈঠক করেন সৌদি আরবেও।

এরপর ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রোমে এক কনফারেন্সে সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সাউদ বলেন, কুয়েতের অব্যাহত তৎপরতার অংশ হিসেবে গত কয়েকটি দিনে আমরা উল্লে­খযোগ্য অগ্রগতি করতে পেরেছি।  এতে সমর্থন থাকার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ। আমরা আশা করি, এর ফলে চূড়ান্ত একটি চুক্তি করতে পারবো আমরা এবং তা খুব তাড়াতাড়িই। আমি আরো বলতে পারি যে, আমি আশাবাদী এই বিরোধে জড়িত সব দেশের মধ্যেই আমরা একটি চূড়ান্ত চুক্তির কাছাকাছি।

ওয়াশিংটনের একটি সূত্র জানিয়েছে, সব পক্ষের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছা গেছে। তা আগামী দু’এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাক্ষরিত হতে পারে। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : সৌদি-কাতার সংকট