ফিয়েস্তা ও সিয়েস্তার দেশ স্পেনে আনন্দ নেই
jugantor
ফিয়েস্তা ও সিয়েস্তার দেশ স্পেনে আনন্দ নেই

  বকুল খান, স্পেন থেকে  

২২ ডিসেম্বর ২০২০, ১৪:০৯:০১  |  অনলাইন সংস্করণ

ফিয়েস্তা আর সিয়েস্তার (স্পেনিশ প্রচলিত ভাষায় ফিয়েস্তা হলো উৎসব আর সিয়েস্তা হলো দুপুরের ঘুম) দেশ স্পেন। সারা বছরে আনন্দ উৎসব মুখরিত থাকা ফুটবলের এই দেশে।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ক্রিসমাসকে ঘিরে নতুন বর্ণিল সাজে সজ্জিত স্পেন। করোনা মহামারীর কারণে আনন্দের সেই জৌলুস উৎসবি আমেজ নেই। শুরু হয়েছে গত (২১ ডিসেম্বর) থেকে স্পেনে শীতকাল। 

শীতকালে স্থায়িত্ব হবে ২০ মার্চ পর্যন্ত। পার্শ্ববর্তী দেশ জার্মানি ও ইংল্যান্ডের করোনার তাণ্ডবের ঢেউ লেগেছে স্পেনে। সবার মাঝে অজানা এক আতঙ্ক ঘিরে রেখেছে। কখন আবারো কোভিড-১৯ তীব্রভাবে সংক্রমিত হয় স্পেন!

তবে জানুয়ারি থেকে করোনার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেনিশ বিশেষজ্ঞরা। এদিকে সরকারি প্রণোদনার মেয়াদ শেষ হবে জানুয়ারি ৩১ তারিখে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্র বন্ধ রয়েছে। জানুয়ারির পরে খুললে চাকরি হারাতে পারেন অনেকে। এতে করে নতুন অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।

প্রতি বছরের মতো এবারও ক্রিসমাসের কেনাকাটা সীমিত হয়েছে। সংকোচিত করছেন উৎসব আনন্দের অনুষ্ঠান পর্ব। ইউরোপের রোদ্রউজ্জ্বল, সুন্দর, স্বাস্থ্যসম্মত আবহাওয়া এবং সর্বোপরি জীবন ব্যবস্থা সুলভ মূল্যে থাকায় প্রতিবছর রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক এখানে আসেন। এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে তা শূন্য কোঠায়।

প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষের আয়ের উৎস থেমে গেছে। ৩০ লাখ কর্মজীবী মানুষ রাষ্ট্রের অনুদান ইআরটির ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছেন। মহামারি কাটলেও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে এদের অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।

গত দুই মাসে স্পেনের জিডিপি কমেছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। স্পেনের ইতিহাসে গত ১ শতাব্দীতে এই হারে জিডিপির পতন ঘটেনি। স্পেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পতনের হার ভয়াবহ হয়ে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।

সারা স্পেন জুড়ে ২৫ অক্টোবর, রোববার রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে আগামী বছর মে পর্যন্ত। তার মানে, রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ও তার প্রমাণ ছাড়া বাইরে থাকলে পুলিশ তার ওপর জরুরি আইন প্রয়োগ করবে। এ ক্ষেত্রে জরিমানা ৩০০ ইউরো থেকে ৬ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
 
উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকায় স্পেনিশরা ব্যয় কমিয়ে সঞ্চয়ী হয়েছেন উদ্ভূত নতুন কোন পরিস্থিতির জন্য। এবারের বড়দিন, নতুন বছর উদযাপনে দিনগুলো মলিন হলেও সান্ত্বনা এ বছর শুধু বেঁচে থাকা, টিকে থাকা।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]

ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস

ফিয়েস্তা ও সিয়েস্তার দেশ স্পেনে আনন্দ নেই

 বকুল খান, স্পেন থেকে 
২২ ডিসেম্বর ২০২০, ০২:০৯ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ফিয়েস্তা আর সিয়েস্তার (স্পেনিশ প্রচলিত ভাষায় ফিয়েস্তা হলো উৎসব আর সিয়েস্তা হলো দুপুরের ঘুম) দেশ স্পেন। সারা বছরে আনন্দ উৎসব মুখরিত থাকা ফুটবলের এই দেশে।

খ্রিস্টান ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় উৎসব ক্রিসমাসকে ঘিরে নতুন বর্ণিল সাজে সজ্জিত স্পেন। করোনা মহামারীর কারণে আনন্দের সেই জৌলুস উৎসবি আমেজ নেই। শুরু হয়েছে গত (২১ ডিসেম্বর) থেকে স্পেনে শীতকাল। 

শীতকালে স্থায়িত্ব হবে ২০ মার্চ পর্যন্ত। পার্শ্ববর্তী দেশ জার্মানি ও ইংল্যান্ডের করোনার তাণ্ডবের ঢেউ লেগেছে স্পেনে। সবার মাঝে অজানা এক আতঙ্ক ঘিরে রেখেছে। কখন আবারো কোভিড-১৯ তীব্রভাবে সংক্রমিত হয় স্পেন!

তবে জানুয়ারি থেকে করোনার আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন স্পেনিশ বিশেষজ্ঞরা। এদিকে সরকারি প্রণোদনার মেয়াদ শেষ হবে জানুয়ারি ৩১ তারিখে। অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং কর্মক্ষেত্র বন্ধ রয়েছে। জানুয়ারির পরে খুললে চাকরি হারাতে পারেন অনেকে। এতে করে নতুন অর্থনৈতিক সংকট দেখা দিতে পারে।

প্রতি বছরের মতো এবারও ক্রিসমাসের কেনাকাটা সীমিত হয়েছে। সংকোচিত করছেন উৎসব আনন্দের অনুষ্ঠান পর্ব। ইউরোপের রোদ্রউজ্জ্বল, সুন্দর, স্বাস্থ্যসম্মত আবহাওয়া এবং সর্বোপরি জীবন ব্যবস্থা সুলভ মূল্যে থাকায় প্রতিবছর রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক এখানে আসেন। এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে তা শূন্য কোঠায়।

প্রায় ৯ লাখ ৫০ হাজার মানুষের আয়ের উৎস থেমে গেছে। ৩০ লাখ কর্মজীবী মানুষ রাষ্ট্রের অনুদান ইআরটির ওপর নির্ভর হয়ে পড়েছেন। মহামারি কাটলেও প্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার কারণে এদের অনেকে চাকরি হারিয়েছেন। আশঙ্কা করা হচ্ছে, অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে।

গত দুই মাসে স্পেনের জিডিপি কমেছে ৫ দশমিক ২ শতাংশ। স্পেনের ইতিহাসে গত ১ শতাব্দীতে এই হারে জিডিপির পতন ঘটেনি। স্পেনের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই পতনের হার ভয়াবহ হয়ে ১৩ দশমিক ৬ শতাংশ পর্যন্ত নেমে যাওয়ার আশঙ্কা করছে।

সারা স্পেন জুড়ে ২৫ অক্টোবর, রোববার রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ বলবৎ থাকবে আগামী বছর মে পর্যন্ত। তার মানে, রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কোন সুনির্দিষ্ট কারণ ও তার প্রমাণ ছাড়া বাইরে থাকলে পুলিশ তার ওপর জরুরি আইন প্রয়োগ করবে। এ ক্ষেত্রে জরিমানা ৩০০ ইউরো থেকে ৬ হাজার ইউরো পর্যন্ত হতে পারে।
 
উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় থাকায় স্পেনিশরা ব্যয় কমিয়ে সঞ্চয়ী হয়েছেন উদ্ভূত নতুন কোন পরিস্থিতির জন্য। এবারের বড়দিন, নতুন বছর উদযাপনে দিনগুলো মলিন হলেও সান্ত্বনা এ বছর শুধু বেঁচে থাকা, টিকে থাকা।

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : ছড়িয়ে পড়ছে করোনাভাইরাস