করোনাকালীন সময় আমরা কতটা কাজে লাগিয়েছি?

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
১৫ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

জীবন এবং মরণের মাঝখানের সময়টি ক্ষণিকের বা দীর্ঘদিনের হতে পারে। এর ওপর আমাদের কোনো হাত নেই। অনিশ্চিত জীবন, অনিশ্চিত সময়। যখন যেটা ঘটার সেটা ঘটবে। এদিকে জন্মের শুরু থেকে বোধগম্য হবার আগ পর্যন্ত আমাদের নিজেদের ভালো-মন্দ বোঝার বা দায়ভার নেবার দায়িত্ব অন্যের ওপর থাকে। 

সেক্ষেত্রে আমাদের কোনো ধারণা নেই, ভবিষ্যতে কী হবে বা কী না হবে। কারও কারও আবার সেটা কখনোই হয় না, এমনও আছে। যদিও কথায় বলে, না কাঁদলে মা শিশুকে দুধ দেয় না। তারপরও জীবনের শুরু থেকে শেষ অবধি চেষ্টা করি সবকিছু সহজভাবে পেতে এবং বোধগম্য হবার সাথে সাথেই আমরা চাইতে অভ্যস্ত হয়ে পড়ি, কিন্তু দিতে অভ্যস্ত হই না। 

জীবন এবং মরণের মাঝখানের সময়টুকু শুধু চাইতে, নিতে আর উপভোগ করতেই চলে যায়। মোনাজাতে বসে আমাদের প্রার্থনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আল্লাহ ঈমান দাও, আল্লাহ মাফ করে দাও, আল্লাহ তৌফিক দাও। এটা দাও, সেটা দাও, যেটা চাইতে ভুলে গেছি তাও দাও, শুধু দাও আর দাও। কেবল চাওয়া এবং পাওয়ার জন্যই কি মানুষ জাতির জন্ম? 

যদি বলি, I  want happiness মানে আমি সুখি হতে চাই। কিছু হতে চাওয়া এবং সেটা পাওয়া it’s a kind of process এবং এর জন্য we need to do some activities. এই activities গুলো হতে পারে “দেওয়া”। 

কিভাবে দিতে হবে বা দেওয়া যেতে পারে এটা নিয়ে আমার কিছু কথা বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের জন্য। এই যে একটি বছর করোনা প্যান্ডামিকের কারণে আমরা স্লো ছিলাম, কে কীভাবে সময়টি পার করলাম ভেবেছি কি? এখন নতুন করে যদি অতীতকে নিয়ে ভাবতে শুরু করি তাহলে হয়তো আম ছালা দুটোই যাবে, মানে যদি কিছুই শিক্ষণীয় না হয় তবে সেটা হবে ওয়েস্ট। 

সেক্ষেত্রে long story short- যারা চাওয়া পাওয়ায় অভ্যস্ত তারা সেটাই করেছে কিন্তু যারা দিতে অভ্যস্ত তারা তিনটি বিষয়ের (চাওয়া, পাওয়া এবং দেওয়া) ওপর পুরো সময় কাজ করেছে। 

একটি উদাহরণ দিই। ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রি “ফাইজার” মানবজাতিকে একটি নির্ভরযোগ্য ভ্যাকসিন দিয়েছে। যাদের দেবার অভ্যাস তারা কিন্তু লকডাউনেও তাদের কাজ অব্যাহত রেখেছে। আর যাদের নেবার অভ্যাস তারা শুধু লকডাউন নয় সাটডাউনের সময়ও নিয়েছে। 

উপরের বাক্য I want happiness-এ ফিরে যাই। আমি সুখি হতে চাই। আমাদের বলে কিছু নেই শুধু আমাকে নিয়েই ভাবনা। এখন যদি আমি এবং হতে চাই কথাটি বাদ দেই দেখা যাক কি দাড়ায়। 

একটি শব্দ “সুখি” একা হয়ে গেল। কিন্তু সুখ চলে যায়নি শুধু বাদ দিয়েছি আমি এবং হতে চাই। “সুখ” শব্দটি যদি সবার জন্য ব্যবহার করতে পারি তখনই সম্ভব দিতে শেখা। জীবন এবং মরণের মাঝে যে সময়টুকু আমরা পেয়েছি সেটা good enough to bring happiness to all, so please let us do (bring happiness to all) it and do it now.

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম