করোনা নিয়ে চীনের গুজব ও আমাদের বক্তব্য

 রহমান মৃধা, সুইডেন থেকে 
০৭ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:৫২ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আজগুবি, উদ্ভট বা বানোয়াটি কথা শুধু বাংলাদেশের মানুষ বলে আগে এমনটি ধারণা ছিল। কিছুদিন আগে জানলাম চীনের কিছু মানুষের ধারণা করোনা বাংলাদেশ এবং ভারত থেকে এসেছে। আমাদের প্রবাদ বাক্যে বলে যা কিছু ঘটে তার কিছু রটে। এখন প্রশ্ন কী এমন ঘটনা ঘটলো যে চীন এমন একটি গুজব ছড়িয়ে দিল? 

যদিও আমি কথাটি বাংলাদেশের মিডিয়াতেই শুধু দেখেছি। ছোটবেলা থেকেই বাবা-মা থেকে শুরু করে মুরব্বি, শিক্ষক সবার থেকে একটি কথা শুনেছি সেটা হলো- সদা সত্য কথা বলিবে। এখন যদি চীন সত্যিই বলে থাকে যে কোভিড-১৯ এর উৎপত্তি বাংলাদেশ এবং ভারতে এবং যদি তাদের এই অভিযোগ আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ মনে হয় তাহলে এর সত্যতা যাচাই করতে হবে এবং এটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করতে হবে। 

এখন কোনটি গুরুত্বপূর্ণ আর কোনটি গুরুত্বপূর্ণ নয় তা নির্ভর করছে পরিবেশ পরিস্থিতি এবং অন্যান্য পারিপার্শ্বিকতার ওপর। সেক্ষেত্রে কোনো কোনো সময় আজগুবি, উদ্ভট বা বানোয়াটি কথাগুলো অনুসন্ধান বা গবেষণা করা দরকার হয়।
 
অনুসন্ধান আর গবেষণা দুটো এক রকম শব্দ মনে হলেও এদের মাঝে পার্থক্য বিদ্যমান। অনুসন্ধান হলো, কোনো জিনিসকে খোঁজা, তালাশ করা, আবিষ্কার করা। অন্যদিকে গবেষণা হলো কোনো উপস্থিত জিনিসকে নিয়ে চিন্তা করা, প্রশ্ন করা, পর্যবেক্ষণ করা, পরীক্ষা করা, ফলাফল প্রকাশ করা এবং শেষে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। এতকিছুর পরে ঘটনাটি সত্য কি মিথ্যা জানা সম্ভব। 

আমার মনে হয় আজগুবি, উদ্ভট বা বানোয়াট কথাগুলোর যথেষ্ট গুরুত্ব রয়েছে। মানুষ জাতির বৈশিষ্ট্য হলো সমস্যা সৃষ্টির সঙ্গে তার সমাধান করা। বাংলাদেশের মানুষ আজগুবি, উদ্ভট বা বানোয়াটি কথা বলতে পছন্দ করে কারণ আমরা ক্রিয়েটিভ। 

কেউ সমস্যা সৃষ্টি করছে আবার কেউ তার সমাধান করছে। যেমন ইদানীং বেশ শোনা যাচ্ছে গোল্ডেন মনিরের নাম। সে অনেক প্রভাবশালী এবং বড়লোক। দেশের নিয়মের বাইরে সে কাজ করে। দেশের ক্ষমতাশীল মুরব্বিদের আশীর্বাদ রয়েছে তার ওপর। তা না হলে এত বড় লোক হওয়া কি সম্ভব? 

এখন সেই মুরব্বিরা কারা? হতে পারে তারা রাজস্ব বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, আইন বিভাগের বড় বড় ব্যক্তি, ব্যারিস্টার, ক্ষমতাসীন ঊর্ধ্বতন রাজনীতিবিদ কিংবা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
 
এখন কথায় বলে কান টানলে মাথা চলে আসে। বাংলাদেশের মানুষ বেশি ক্রিয়েটিভ যার ফলে তারা কান না টেনে সরাসরি তা কেটে ফেলছে। এই কেটে ফেলার কারণে মুরব্বি বা গড ফাদারদের ধরতে সরকার ব্যর্থ এবং এই ব্যর্থতার কারণই দেশে দুর্নীতি, অনীতি।

আমরা শুধু ওসি প্রদীপ, গোল্ডেন মনির, শামীম, বন্ড, ক্যাসিনো সম্রাট এদের কথা জানতে পারছি কিন্তু এদের পেছনে কে বা কারা তা জানা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আজগুবি, উদ্ভট বা বানোয়াটি এসব কথার প্রচলন রয়েছে। 

জনগণের মধ্যে যে দলটি সবচেয়ে ক্রিয়েটিভ তারা গোল্ডেন মনিরের জীবনের সঙ্গে যেসব মুরব্বির বেটারা জড়িত তাদের কথাও জানতে চাই। সেক্ষেত্রে দরকার অনুসন্ধানের অর্থাৎ খুঁজে দেখা, তালাশ করা বা আবিষ্কার করা। 

তার জন্য দরকার গবেষণা করা অর্থাৎ উপস্থিত জিনিসকে নিয়ে চিন্তা করা, প্রশ্ন করা, পর্যবেক্ষণ করা, পরীক্ষা করা, ফলাফল প্রকাশ করা এবং শেষে সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া। হচ্ছে কি এমনটি বাংলাদেশে?
 
যেসব মুরব্বির আশীর্বাদ রয়েছে গোল্ডেন মনিরের বড়লোক হবার পেছনে আমরা তাদেরকে দেখতে চাই। তাদের গল্প শুনতে চাই এবং সবশেষে কাঠগড়ার বিচারে তাদের কঠিন সাজা হয়েছে তাও জানতে চাই।

পঞ্চাশ বছর দেশ স্বাধীন হলো, সোনার বাংলা হলো না অথচ গোল্ডেন মনিরের মতো হাজার হাজার দানব তৈরি হলো। বড্ড আফসোস! হায়রে মুরব্বি! তোমরা সবই পার শুধু পারলে না সোনার বাংলা গড়তে!

লেখক: রহমান মৃধা, সাবেক পরিচালক (প্রোডাকশন অ্যান্ড সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট), ফাইজার, সুইডেন থেকে, rahman.mridha@gmail.com

[প্রিয় পাঠক, যুগান্তর অনলাইনে পরবাস বিভাগে আপনিও লিখতে পারেন। প্রবাসে আপনার কমিউনিটির নানান খবর, ভ্রমণ, আড্ডা, গল্প, স্মৃতিচারণসহ যে কোনো বিষয়ে লিখে পাঠাতে পারেন। সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন jugantorporobash@gmail.com এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।]
যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন

ঘটনাপ্রবাহ : রহমান মৃধার কলাম