আর ৬ মাস বাঁচতে চেয়েছিলেন আবদুল কাদের: হানিফ সংকেতের আবেগঘন স্ট্যাটাস

 যুগান্তর ডেস্ক 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৫২ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
আর ৬ মাস বাঁচতে চেয়েছিলেন আবদুল কাদের: হানিফ সংকেতের আবেগঘন স্ট্যাটাস
ছবি: ফেসবুক থেকে নেয়া।

হুমায়ুন আহমেদের লেখা ‘কোথাও কেউ নেই’ নাটকে ‘বদি’ চরিত্রে অভিনয় করে সাড়া ফেলেছিলেন অভিনেতা আবদুল কাদের। এই একটি চরিত্রই তাকে খ্যাতি এনে দিয়েছিল, আর পিছু তাকাতে হয়নি। পরে জনপ্রিয় ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ইত্যাদিতে নিয়মিত অভিনয় করে গেছেন তিনি। দর্শক তার অভিনয় পছন্দ করতেন। এই দর্শকপ্রিয়তাই তাকে চাকরির ফাঁক বের করে শুটিংয়ে টেনে নিয়ে আসত। দর্শকদের ভালোবাসায় অসুস্থ অবস্থায়ও ইত্যাদির সবশেষ ইপিসোডে অভিনয় করে গেছেন তিনি। 

তাই এ অভিনেতাকে নিয়ে ইত্যাদির নির্মাতা ও উপস্থাপক হানিফ সংকেতের টান একটু বেশিই বটে। আবদুল কাদেরের মৃত্যুকে কিছুতেই মানতে পারছেন না জনপ্রিয় এ ‍উপস্থাপক। ২৬ ডিসেম্বর কাদেরের মৃত্যুর সংবাদ শুনে থমকে দাঁড়ান হানিফ সংকেত। 

বিকাল ৫টা ১৩ মিনিটে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে শোক প্রকাশ করে হানিফ সংকেত একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দেন। তিনি লেখেন– ‘চলে গেলেন ‘ইত্যাদি’র আরও একজন নিয়মিত শিল্পী, সবার প্রিয় অভিনেতা আবদুল কাদের। 
প্রায় পঁচিশ বছর ধরেই তিনি ‘ইত্যাদি’র অত্যন্ত জনপ্রিয় পর্ব ‘মামা-ভাগ্নে’র ‘মামা’ চরিত্রে অভিনয় করেছেন। তিনি নিজে যেমন এই চরিত্রটিকে ভালোবাসতেন, তেমনি দর্শকদের কাছেও প্রিয় ছিল এই ‘মামা’ চরিত্রটি। অত্যন্ত নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল জীবনযাপন করতেন কাদের ভাই। দেখে কখনও মনেই হয়নি এত বড় একটি রোগ তার শরীরের এতটা ক্ষতি করে ফেলেছে। গত ৩০ অক্টোবর প্রচারিত ‘ইত্যাদি’ই ছিল কাদের ভাইয়ের জীবনের শেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি ধারণের সময়ই কাদের ভাইকে কিছুটা অসুস্থ ও মলিন দেখাচ্ছিল। আগের সেই উচ্ছ্বাস ছিল না। ধারণ শেষে যাওয়ার সময় বলেছিলেন– তার শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। দোয়া চাইলেন। 

এর পর হঠাৎ করে শুনলাম তিনি চেন্নাইয়ের হাসপাতালে। ভিডিও কলে কথা হলো। মুখে খোঁচা খোঁচা দাড়ি, নাকে অক্সিজেন মাস্ক। কাদের ভাইয়ের এই চেহারা দেখব কখনও কল্পনাও করিনি। আমাকে দেখে আবেগে কেঁদে ফেললেন। এর পর চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে নামার পর আবার কথা হলো। বললেন, ‘দেশের মাটিতে এসেছি, দোয়া করবেন যাতে আবার একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’ আবারও সেই কান্নাভেজা কণ্ঠ। আরও ৬টি মাস বাঁচতে চেয়েছিলেন কাদের ভাই কিন্তু মৃত্যু তাকে সে সুযোগ দেয়নি। এত দ্রুত যে তিনি এতটা অসুস্থ হবেন এবং আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন তা কল্পনাও করিনি। 

কাদের ভাই শুধু ‘ইত্যাদি’র নিয়মিত শিল্পীই ছিলেন না, ছিলেন ‘ইত্যাদি’ পরিবারের একজন সদস্য। গুণী এই অভিনেতার মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। আমরা তার জন্য মাগফিরাত কামনা করছি এবং তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।

রোববার রাতে হানিফ সংকেত আরও একটি স্ট্যাটাস দেন। যেখানে ইত্যাদিতে অভিনীত কাদেরের শেষ চরিত্রটি সম্পর্কে লেখা হয়েছে। তিনি ইপিসোডের ভিডিওটিও ফেসবুকে শেয়ার করেছেন। 

হানিফ সংকেত লেখেন– ‘গত ২৯ অক্টোবর, ২০২০-এ প্রচারিত ইত্যাদিই ছিল প্রয়াত অভিনেতা আবদুল কাদের অভিনীত শেষ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানটি ধারণ করা হয়েছিল গত ২২ সেপ্টেম্বর। সেদিনও কাদের ভাই বেশ অসুস্থ ছিলেন। তার পরও ইত্যাদির প্রতি ভালোবাসার কারণে তিনি অভিনয় করেছেন এবং এটিই ছিল তার জীবনের শেষ অভিনয়। গত ইত্যাদিতে প্রচারিত ‘মামা-ভাগ্নে’ পর্বটি আপনাদের অনুরোধে আবারও দেয়া হলো।’

মরণব্যাধি ক্যান্সারের কাছে হার মেনে শনিবার না ফেরার দেশে পাড়ি জমান আবদুল কাদের।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন