ফেনীতে অপহৃত ঠিকাদারকে উদ্ধার, আটক ৪

 ফেনী প্রতিনিধি 
২৮ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:১৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফেনী
ফাইল ছবি

ফেনীতে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে গ্রামপুলিশের (চৌকিদার-দফাদার) পোশাক সরবরাহের দরপত্র জমাদানে বাধা দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে দরপত্র জমা দিতে আসা ঠিকাদারকে দুর্বৃত্তরা অপহরণ করেছে বলেও অভিযোগ করা হয়।

তবে অপহৃত ঠিকাদারকে আজ সন্ধ্যায় উদ্ধার করেছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।

এ ঘটনায় রোববার রাতে ফেনী মডেল থানায় সদর উপজেলার শর্শদী  ইউপি চেয়ারম্যান জানে আলমসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে ঠিকাদার খলিলুর রহমান।

এ ঘটনায় আটকরা হলো- ফেনী সদর উপজেলার জাহানপুর পাটোয়ারী বাড়ির খোরশেদ আলমের ছেলে শফিকুল ইসলম সম্রাট (২৪), একই গ্রামের মোয়াজ্জেম বাড়ির আবুল কাসেমের ছেলে সালাউদ্দিন (২০), শহরের পূর্ব উকিলপাড়ার শাহাদত হোসেনের ছেলে রাসেল হোসেন (২৭), মোহাম্মদ আলী জোয়ারকাছার গ্রামের সাহাবউদ্দিন মেম্বারবাড়ির কবির আহম্মদের ছেলে কামরুল হাসান সাব্বির (২৩)।

পুলিশ ও মামলার বিবরণ সূত্রে জানা যায়, ঠিকাদার খলিলুর রহমান রোববার ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয় স্থানীয় সরকার শাখার স্মারক নম্বর নং-০৫ ২০ ৩০ ৪০ ৫০ ৬০ ৭০ ১১২০ ২৬৭, তারিখ ২-১২-২০২০ উন্মুক্ত দরপত্র বিজ্ঞপ্তি ২৭ ডিসেম্বর দুপুরে ফেনী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে ২য় তলায় (দরপত্র দাখিল করার কক্ষ) ফেনীতে মাটি ও মানুষ নামীয় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পক্ষে ৫৪ লাখ টাকার দরপত্র দাখিল করতে যান।

এ সময় শফিকুল ইসলাম সম্রাট, সালাউদ্দিন, রাসেল হোসেন, কামরুল হাসান সাব্বির ও শর্শদী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জানে আলম ভূঁইয়ার সঙ্গে আরও ২-৩ জন কৌশলে জোরপূর্বক তাকে অপহরণ করে ফেনী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আগে পাশে কিং ফাইভ স্টার কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরে নিয়ে যায়।

এ সময় অপহরণকারী রফিকুল ইসলাম প্রকাশ সম্রাটের ব্যবহৃত ওয়ালটন প্রিমো মোবাইল ছিনিয়ে নিয়ে অকথ্য ভাষায় গালমন্দ করতে থাকে এবং তার সঙ্গে থাকা দরপত্র দাখিল না করার বিষয়ে হুমকি প্রদান করে। একপর্যায়ে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেয়। পরে দরপত্র দাখিলের কাগজপত্রাদি নিয়ে চলে যায়।

খবর পেয়ে রাতে ফেনী জেলা ডিবি পুলিশ ওই কমিউনিটি সেন্টারে অভিযান চালিয়ে দিয়ে চার যুবককে আটক করে আটক করে আমাকে উদ্ধার করে। রাতে মামলার পর পুলিশ পাহারায় ঠিকাদার খলিলুর রহমান ফেনী ত্যাগ করেছেন।  

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুজ্জামান যুগান্তরকে জানান, আমার অফিস থেকে কেউ অপহরণ হয়নি। অপহরণ হয়েছে রাস্তা থেকে। পুলিশ তাকে উদ্ধার করেছে এবং এ বিষয় থানায় মামলা হয়েছে।

স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক ড. মোহাম্মদ মঞ্জুরুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ঘটনার দিন চট্টগ্রামে মিটিং থাকায় ফেনীতে ছিলেন না। বিষয়টি তিনি শুনেছেন। টেন্ডার কমিটি সভা ডেকে দরপত্রটি বাতিল করা হবে।  

ফেনী মডেল থানা পুলিশের ওসি মো. আলমগীর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এ ঘটনায় রোববার রাতে মামলা হয়েছে। পুলিশ এ ঘটনায় চারজনকে আটক করেছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন