মঞ্চ তোরণ নির্মাণ শেষ, আ’লীগের সম্মেলন মাঝরাতে স্থগিত

 বগুড়া ব্যুরো 
২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৫০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

আট বছর পর বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনের দিন ধার্য হয়েছিল রোববার সকালে। স্থানীয় সরকারি এমএইচ ডিগ্রি কলেজ মাঠে মঞ্চ তৈরি, প্রবেশ মুখে তোরণ নির্মাণ ও ব্যানার ফেস্টুনে পুরো এলাকা ছেয়ে যায়। তবে জেলা আওয়ামী লীগ হঠাৎ করে শনিবার মধ্যরাতে সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করে।

এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে; কিন্তু শাস্তির ভয়ে প্রকাশ্যে কেউ মুখ খোলার সাহস করছেন না।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর সর্বশেষ শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। আট বছর পর রোববার সকালে শিবগঞ্জ এমএইচ ডিগ্রি কলেজ মাঠে সম্মেলনের দিনক্ষণ ধার্য হয়েছিল।

সম্মেলনকে সামনে রেখে ১২ ইউনিয়নের ১০৮ ওয়ার্ড কমিটি নতুন করে ঢেলে সাজানো হয়েছে। ১২ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার মধ্যে ৫টির সম্মেলন সম্পন্ন হয়েছে। সম্মেলনে ১২ ইউনিয়ন এবং একটি পৌরসভায় ৩১ জন করে ৪০৩ জন, উপজেলা কমিটির ৬৭ জন এবং কো-অপ্ট ১৫ জন সদস্য মিলে মোট ৪৮৫ জন ভোটার ছিলেন।

রোববার উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন ঘিরে নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে উঠেন। পুরো উপজেলায় নেতাকর্মীদের মাঝে সাজ-সাজ রব ছিল। সম্ভাব্য সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীদের নামে ব্যানার পোস্টারে ছেয়ে ফেলা হয়; কিন্তু শনিবার মধ্যরাতে হঠাৎ করে সম্মেলন স্থগিত করে জেলা আওয়ামী লীগ। এতে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মাঝে প্রচণ্ড ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়।

শিবগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজার রহমান মোস্তা বলেন, সম্মেলনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করার পর রাত সাড়ে ১১টায় জানতে পারি জেলা কমিটি সম্মেলন স্থগিত করেছে। তবে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে জানানো হয়নি।

ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক মাহফুজুল হক বলেন, রাতের আঁধারে রহস্যজনকভাবে রাজনৈতিক দলের সম্মেলন স্থগিত গঠনতন্ত্র পরিপন্থী। সম্মেলন ঘিরে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের অনেক ঘাম-পরিশ্রম আশা-আকাঙ্ক্ষা জড়িত থাকে। নেতাদের এ বিষয়গুলো বুঝতে হবে।

এ প্রসঙ্গে বগুড়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রাগেবুল আহসান রিপু বলেন, সম্মেলন কেন্দ্র করে কিছু অনিয়ম ছিল। গঠনতন্ত্র মোতাবেক হয়নি সবকিছু। এজন্য সম্মেলন স্থগিত ঘোষণা করা হয়। আগামীতে জেলা নেতারা উপস্থিত থেকে বাকি ইউনিয়নগুলোর সম্মেলনে কমিটি গঠন করবেন। এরপর উপজেলা সম্মেলন সম্পন্ন করা হবে।

জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মজিবর রহমান মজনু সম্মেলন স্থগিত ঘোষণার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, সম্মেলনে প্রতিদ্বন্দ্বী একাধিক সভাপতি-সম্পাদক প্রার্থীর বিরুদ্ধে নানান অভিযোগ ছিল। এত কম সময়ে এ অভিযোগগুলো যাচাই-বাছাই করা সম্ভব ছিল না। তাই সম্মেলন স্থগিত করা হয়েছে। আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনের পর ফেব্রুয়ারি মাসে এ উপজেলার সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন