বগুড়ায় শ্রমিক লীগ নেতা রাজার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

 বগুড়া ব্যুরো 
২৭ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:২০ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক রাশেদুল ইসলাম রাজার (৪১) বিরুদ্ধে ৭ কোটির অধিক টাকা মূল্যের জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগ এবং সাড়ে ৪ কোটির অধিক টাকা মূল্যের সম্পদের তথ্য গোপনের সত্যতা মিলেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রবীন্দ্রনাথ চাকী রোববার দুপুরে তার বিরুদ্ধে নিজ কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছে মামলা করেছেন।

বাদী রবীন্দ্রনাথ চাকী জানান, মেসার্স রাজা এন্টারপ্রাইজের মালিক রাশেদুল ইসলাম রাজা বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলার সান্দিড়া গ্রামের মৃত নজরুল ইসলামের ছেলে। তিনি গত বছরের ২১ আগস্ট সম্পদ বিবরণী দাখিল করেন। যাচাইকালে দেখা যায়, রাশেদুল ইসলাম রাজা বিসিআইসি সান্তাহার বাফার গুদামের হ্যান্ডেলিং ঠিকাদার। তার বিরুদ্ধে বাফার গুদামের ১৫৩ কোটি ৩৬ লাখ ১৩ হাজার ৭৫২ টাকা ৫৪ পয়সা মূল্যের ৫২ হাজার ৩৪২ দশমিক ৮০ টন সার আত্মসাতের অভিযোগ উঠে।

তিনি জানান, গত ২০১৮ সালের ৩১ অক্টোবর আদমদীঘি থানায় রাজাসহ অন্যদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। তদন্ত শেষে রাজাসহ অন্য আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তিনি গত ১০ সেপ্টেম্বর আদালতে আত্মসমর্পণ করলে জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে বগুড়া জেলহাজতে পাঠানো হয়।

রাশেদুল ইসলাম রাজা গত বছরের ২১ আগস্ট দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে দুই কোটি ৪০ লাখ ৬০ হাজার ৯৮৬ টাকা মূল্যের জমি ক্রয় এবং এক কোটি ৭২ লাখ ৬৫ হাজার টাকা ব্যয়ে ৫ তলা বিল্ডিং নির্মাণের কথা উল্লেখ করেন। অর্থাৎ তিনি দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে চার কোটি ১৩ লাখ ২৫ হাজার ৯৮৬ টাকা মূল্যের স্থাবর সম্পদ উল্লেখ করেন।

যাচাইকালে তিন কোটি ৯৭ লাখ ৩৩ হাজার ৪৯০ টাকা মূল্যের জমি ক্রয় এবং দুই কোটি ৭৬ লাখ ১১ হাজার ৫২৭ টাকা ৪ পয়সায় বিল্ডিং নির্মাণের তথ্য পাওয়া যায়। ছয় কোটি ৭৩ লাখ ৪৫ হাজার ১৭ টাকা ৪ পয়সার সম্পদ বিবরণীর মধ্যে দুই কোটি ৬০ লাখ ১৯ হাজার ৩১ টাকা ৪ পয়সার তথ্য গোপন করা হয়েছে।

ব্যবসার পুঁজি এক কোটি ২২ লাখ ৯১ হাজার ১০ টাকা উল্লেখ করা হলেও কোনো সম্পদের তথ্য দেয়া হয়নি। এখানে এক কোটি ৯৮ লাখ ৪৫ হাজার ৯১১ টাকা ৪৩ পয়সার অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। পিস্তল ক্রয় বাবদ সাড়ে তিন লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। এখানে এক কোটি ৯৪ লাখ ৯৫ হাজার ৯১১ টাকা ৪৩ পয়সার তথ্য গোপন করা হয়। মোট চার কোটি ৫৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৪২ টাকা ৪৭ পয়সা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন করা হয়েছে।

এছাড়া রাশেদুল ইসলাম রাজা ২০০৮-০৯ থেকে ২০১৮-১৯ কর বর্ষ পর্যন্ত আয়কর প্রদান ও পারিবারিক ব্যয় করেছেন এক কোটি ৫৮ লাখ ৭৩ হাজার ৪৬৪ টাকা। আয়কর নথিতে আয় পাওয়া যায় এক কোটি ৫০ লাখ ৯৩ হাজার ১৯৩ টাকা। অথচ দাখিলকৃত সম্পদ বিবরণীতে আট কোটি ৭১ লাখ ৯০ হাজার ৯২৮ টাকা ৪৭ পয়সা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া যায়। অর্থাৎ তিনি অসাধু উপায়ে অর্জিত ও তার জ্ঞাত-আয়বহির্ভূত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ ৭ কোটি ২০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৫ টাকা ৪৭ পয়সা মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখলের তথ্য পাওয়া যায়।

রাশেদুল ইসলাম রাজা গত বছরের ২১ আগস্ট দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে চার কোটি ৫৫ লাখ ১৪ হাজার ৯৪২ টাকা ৪৭ পয়সা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের তথ্য গোপন এবং আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতি সাত কোটি ২০ লাখ ৯৭ হাজার ৭৩৫ টাকা ৪৭ পয়সা মূল্যের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ অর্জন করে ভোগদখল করছেন। এভাবে তিনি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০০৪ এর ২৬(২) ও ২৭(২) ধারার শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেন। এ ব্যাপারে রোববার দুদক বগুড়া সমন্বিত কার্যালয়ের উপ-পরিচালকের কাছে মামলা করা হয়েছে।

বাদী সহকারী পরিচালক রবীন্দ্রনাথ চাকী আরও জানান, রাশেদুল ইসলাম রাজা দুদকের অপর মামলায় বর্তমানে জেলে আছেন। নতুন এ মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হবে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন