বরগুনা পৌরসভা নির্বাচন

মনোনয়নের আশায় আ’লীগের ৫ নেতা ঢাকায়: সিদ্ধান্ত আজ

 যুগান্তর রিপোর্ট, বরগুনা 
২৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:৩৮ এএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মনোনয়নের আশায় আ’লীগের ৫ নেতা ঢাকায়: সিদ্ধান্ত আজ
ছবি: যুগান্তর

বরগুনা পৌরসভা তৃতীয় ধাপের নির্বাচন আগামী ৩০ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হচ্ছে। আগামী ৩১ ডিসেম্বর মনোনয়ন দাখিলের শেষ সময়। দলীয় মনোনয় পাওয়ার আশায় বরগুনা আওয়ামী লীগের পাঁচ নেতা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন।

শনিবার সন্ধ্যায় কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড মনোনয়ন চূড়ান্ত করবেন। প্রার্থীদের মধ্যে টান টান উত্তেজনা বিরাজ করছে। কে পাবেন মনোনয়ন। এমন জল্পনা-কল্পনা বরগুনা শহরজুড়ে।

প্রার্থীরা হলেন- মো. হুমায়ূন কবীর, অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, রইসুল আলম রিপন, অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান ও মো. শাহাদাত হোসসেন বাবুল।

জানা যায়, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর বরগুনা পৌরসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেই সময় আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ।

ওই সময় বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে নির্বাচন করেন বরগুনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন বাবুল ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান।

নির্বাচনের দিন বেলা সাড়ে ১১টায় বরগুনা সরকারি কলেজ সড়কে দলীয় প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজসহ ৪-৫ জন সমর্থক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে আহত হন।

গুরুতর অবস্থায় কামরুল আহসান মহারাজকে অ্যাম্বুলেন্সে করে প্রথমে বরিশাল, পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হয়। ৩ ঘণ্টায় ৯টি ভোটকেন্দ্র বন্ধ থাকার পর আবার চালু হয়।

দলীয় প্রার্থী গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর ভোটকেন্দ্রগুলো বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শাহাদাত হোসেন বাবুলের দখলে চলে যায়। বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাদাত মেয়র নির্বাচিত হন।

দলীয় প্রার্থী কামরুল আহসান মহারাজ বরাবরই অভিযোগ করে আসছেন, তৎকালীন জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শাহাদাত হোসেন বাবুলের দ্বারা বাধ্য হয়ে দলীয় প্রার্থী এবং তার এজেন্ট নেতাকর্মীদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দিয়েছে।

নৌকার পক্ষের লোকজন দেখলে সিভিল ও পুলিশ প্রশাসন তাদের ধাওয়া করে তাড়িয়ে দিতেন। প্রতিবাদ করলে মহারাজের ওপর গুলি করা হয়। সেই সবসময় দলীয় প্রার্থীসহ ৪-৫ কর্মী গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন। দীর্ঘদিন ধরে তাদের ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। প্রশাসনের এক চোখা কারণে গতবার দলীয় প্রার্থী পরাজিত হয়।

এ মাসের ৪ তারিখ বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ মনোনয়নের জন্য পাঁচজনের নামের তালিকা কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ অফিসে পাঠানো হয়।

তারা হলেন– জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মো. হুমায়ূন কবীর, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গতবারের দলীয় প্রার্থী অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রইসুল আলম রিপন, জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য সাবেক মেয়র অ্যাডভোকেট গতবারের বিদ্রোহী প্রার্থী মো. শাহজাহান এবং গতবারের বিদ্রোহী প্রার্থী ও বরগুনা পৌর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন বাবুল। মনোনয়নপ্রাপ্তিতে সবাই আশাবাদী।

মো. হুমায়ূন কবীর বলেন, গতবার মনোনয়ন বোর্ডে আমার একক নাম গেছে। তার পরও আমি দলীয় মনোনয়ন পাইনি। মনোনয়ন না পেয়ে দলীয় প্রার্থীর পক্ষে কাজ করেছি। এবার আশাবাদী দলীয় মনোনয়ন আমি পাব।

কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, প্রশাসন ও বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাদাত হোসেন বাবুলের কারণে আমাকে কৌশল করে পরাজিত করানো হয়েছে। শাহাদাতের কালো টাকার কারণে একটি শ্রেণি জিম্মি ছিল। বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে আমি বিপুল ভোটে জয়লাভ করতাম। আমি যখন গুলিবিদ্ধ হই, তখন প্রশাসন ভোট কেন্দ্র বন্ধ না করে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে একতরফা নির্বাচন চালিয়ে তাকে মেয়র নির্বাচিত করে।

বিদ্রোহী প্রার্থী শাহাদাত হোসেন বাবুল হেরে যাবে, এমন আশঙ্কায় সেদিন তিনি প্রশাসন যন্ত্র ব্যবহার করে আমাকে পরাজিত করেছে।

তিনি বলেন, আমি শতভাগ আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী আবারও আমাকে মনোনয়ন দেবেন। আমি মনোনয়ন পেলে এবার বিপুল ভোটে মেয়র হব।

রইসুল আলম রিপন বলেন, আমি তিনবার কাউন্সিলর, প্যানেল মেয়র ছিলাম। পৌরবাসীকে ১৫ বছর একটানা সেবা দিয়ে আসছি। আমাকে দলীয় মনোনয়ন দিলে বিপুল ভোটে জয়লাভ করব।

মো. শাহজাহান বলেন, আমি দুবার মেয়র ছিলাম। গতবার মনোনয়ন পাইনি। আমার সময় বরগুনা পৌরসভায় যে উন্নয়ন হয়েছে তা আর কখনও হয়নি। এবারও দলীয় মনোনয়ন চেয়েছি। দল মনোনয়ন দিলে নিবার্চন করব। মনোনয়ন না পেলে যিনি পাবেন তার পক্ষে কাজ করব।

তিনি বলেন, আমি গতবার বিদ্রোহী প্রার্থী ছিলাম ঠিক আছে, জনগণ আমাকে ভোট দিয়েছে। আমি মেয়র হয়ে গত পাঁচ বছরে কোটি কোটি টাকার উন্নয়নমূলক কাজ করেছি। দল আমাকে ক্ষমা করে দিয়েছে। আমি আশাবাদী দল আমাকে এবার মনোনয়ন দেবেন।

জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম সরোয়ার টুকু বলেন, আমাদের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন, যারা বিদ্রোহী প্রার্থী ছিল বা বিদ্রোহী প্রার্থী হয়ে মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন, তাদেরও মনোনয়ন দেয়া হবে না।

বরগুনা জেলা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ ঐক্যবদ্ধ। যিনি দলীয় মনোনয়ন পাবেন তার পক্ষ হয়ে আমরা সবাই কাজ করব।

অন্যদিকে বিএনপির একক প্রার্থী অ্যাডভোকেট আবদুল হালিম নির্বিঘ্নে মেয়র পদে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি গতবারও দলীয় মনোনয়ন নিয়ে মেয়র পদে নির্বাচন করে হেরে যান।

তিনি বলেন, সুষ্ঠুভাবে নির্বাচন হলে আমি জয়লাভ করব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন