সবজির দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে শেরপুরের চাষীরা

 শেরপুর প্রতিনিধি 
২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৮:৪৭ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শেরপুরে কয়েক দিনের ব্যবধানে শীতকালীন সবজির দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষীরা।
শেরপুরে কয়েক দিনের ব্যবধানে শীতকালীন সবজির দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষীরা।

শেরপুরে কয়েক দিনের ব্যবধানে শীতকালীন সবজির দাম কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন চাষীরা।

ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন, মুলা, শিম,টমেটো প্রভৃতির দামে ব্যাপক পতন হয়েছে এক সপ্তাহের  ব্যবধানে। এতে ক্রেতাদের মুখে হাসি দেখা গেলেও চাষীদের মন খারাপ। কেউ কেউ লোকসানের কথাও বলেছেন।

শেরপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. মোহিত কুমার দে বলেন,শেরপুরে চলতি মৌসুমে ৮ হাজার ৫৬২ হেক্টরে শীতকালীন সবজির চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও আবাদ হয়েছে ৯ হাজার ৭০ হেক্টরে। এখন ভরা মৌসুম তাই সবজির আমদানি বেশি। সবজির আমদানি কমে গেলেই ফের দাম বাড়বে বলে তিনি মনে করেন।  

জেলা শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতি স্টেডিয়াম সংলগ্ন কাঁচা পাইকারি বাজারে সরেজমিন দেখা যায়,সবচেয়ে দাম কমে গেছে ফুলকপি ও মুলার । এক কেজি  ফুলকপি বিক্রি হচ্ছে ১০-১২ টাকায়। এক হালি মুলা বিক্রি হচ্ছে ৪ টাকায়।

শেরপুর সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর দড়িপাড়া গ্রামের ফুলকপি চাষী যদু মিয়া বলেন,২৫ শতাংশ জমিতে ফুলকপি আবাদ করছি। কামলা,সার,কীটনাশক ইত্যাদি খরচ নিয়ে ১৩ হাজার টাকা খরচ  পড়ছে। কপির দাম কমে গেছে। বাজারে গাড়ি ভাড়া দিয়া আনায় আমার এখন সব লোকসান। তালুকপাড়ার নজরুল ইসলাম বলেন,আমি ৪৫ শতাংশ জমিতে ফুলকপি চাষ করছি। আমার খরচ হয়েছে ২৫ হাজার টাকা। আগে যে কপি ২০ টাকা বেচতাম এখন ১০ টাকা বেচতে হয়।

ধোপঘাট তালুকপাড়ার মুলা চাষী মোজাম্মেল বলেন,আমি ১৭ কাঠা জমিতে মুলা চাষ করেছি। খরচ হয়েছে ৪৫ হাজার টাকা। মাত্র ৩ হাজার টাকা বিক্রি করেছি। সব মুলা ক্ষেতে পড়ে রয়েছে, বিক্রি করতে পারছি না। আজ মুলা বাজারে এনেছি, ৪ টাকা হালিতে কিছু বিক্রি করেছি। বাকি মুলা রয়ে গেছে। 

কাঁচামরিচ বিক্রেতা আশকর আলী বলেন,দুই দিন আগে কাঁচা মরিচ ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও এখন ৭২ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। আলু ব্যবসায়ী  সাখাওয়াত বলেননতুন আলু আগে ৫৫ টাকা কেজি বিক্রি হলেও এখন ৪৫-৪৬ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। শিম ব্যবসায়ী ওসমান বলেন,আগে প্রতি কেজি ৪০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন তা ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। টমেটো বিক্রেতা সুরুজ আলী বলেন,কাঁচা টমেটো দুই দিন আগে ২৬ টাকা কেজি দরে বিক্রি করলেও এখন প্রতি কেজি ২০ টাকা করে বিক্রি করছি। বেগুন চাষী মোহাম্মদ আলী বলেন,বেগুন প্রতি পাল্লা (৫ কেজি) আগে ১৫০ টাকায় বিক্রি হলেও এখন ৮০ টাকা পাল্লা, ১৬ টাকা কেজি বিক্রি হচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন