বাবা-মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী

 দশমিনা ও দক্ষিণ (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি 
২৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:৫৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের চারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, সাবেক বস্ত্র প্রতিমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য আ খ ম জাহাঙ্গীর হোসাইনের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে এ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

নেতাকে একনজর দেখার জন্য দলীয় ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের ঢল নামে। 

শুক্রবার দুপুর সোয়া ১টায় অনুষ্ঠিত জানাজায় আ খ ম জাহাঙ্গীরের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য রাখেন- স্থানীয় সংসদ সদস্য এসএম শাহজাদা সাজু, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক মতিউল ইসলাম চৌধুরী, পুলিশ সুপার মঈনুল ইসলাম, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কাজী আলমগীর, জেলা যুবলীগ সভাপতি অ্যাডভোকেট তরিকুল ইসলাম (রনি), জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল খালেক, দশমিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট সিকদার গোলাম মোস্তফা, বর্তমান সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ইকবাল মাহামুদ লিটন, বাউফল উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও ভাইস চেয়ারম্যান খান মোশারেফ, বাউফল যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহম্মেদ (মনির) মোল্লা, দশমিনা উপজেলা যুবলীগ সভাপতি ভাইস চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন পালোয়ান প্রমুখ।

দলীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুর-১ মাজার রোডের প্রিয়াঙ্গন হাউজিংয়ের বাসভবনে মরহুমের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে হেলিকপ্টারযোগে দশমিনায় আনা হয়। সেখানে জানাজা শেষে গলাচিপা মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তৃতীয় এবং বাদআসর চর-চন্দ্রাইল মোহাম্মদিয়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা মাঠে চতুর্থ দফা জানাজা শেষে তার লাশ বাবা-মায়ের কবরের পাশে দাফন করা হয়।

বৃহস্পতিবার বিকালে করোনায় আক্রান্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকাল সোয়া ৩টায় ইন্তেকাল করেন তিনি। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ বহু আত্মীয়স্বজন ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।

প্রবীণ এই আওয়ামী লীগ নেতার মৃত্যুতে দশমিনা ও গলাচিপা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের চর-চন্দ্রাইল গ্রামে জন্ম নেয়া আ খ ম জাহাঙ্গীরের রয়েছে দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন।

স্বাধীনতার আগে গলাচিপা মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াকালে ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন তিনি। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগে যুক্ত হন। পঁচাত্তরে জাতির পিতার নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে তিনি ছিলেন প্রথমসারির লড়াকু সৈনিক।

তিনি ১৯৮১-৮৩ মেয়াদে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে দলের সহ-দফতর সম্পাদক হন। পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন সরকারে তাকে বস্ত্র প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়।

এছাড়া বিভিন্ন সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ছিলেন তিনি। ২০১৪ সালের নির্বাচনে নৌকার মনোনয়ন পেয়ে চতুর্থবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন