জামিনে বেরিয়েই হামলা, তাণ্ডব চালালেন ইউপি চেয়ারম্যান

 ভূরুঙ্গামারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি 
২৪ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:১৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামিনে বের হয়ে এসেই শোডাউন দিয়ে বাজারে তাণ্ডব চালিয়েছেন প্রায় ঘণ্টাব্যাপী।
ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামিনে বের হয়ে এসেই শোডাউন দিয়ে বাজারে তাণ্ডব চালিয়েছেন প্রায় ঘণ্টাব্যাপী।

সাংবাদিককে মেরে জেলহাজতে যাওয়া কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামিনে বের হয়ে এসেই শোডাউন দিয়ে বাজারে তাণ্ডব চালিয়েছে প্রায় ঘণ্টাব্যাপী

এ সময় এক ব্যবসায়ী ও এক সরকারি কর্মকর্তাসহ দুইজনকে মারধর করেন চেয়ারম্যান। গুরুতর আহত অবস্থায় একজনকে রংপুর মেডিকেল কলেজে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান,২৩ ডিসেম্বর বুধবার জামিন পেয়ে কুড়িগ্রাম জেলহাজত থেকে বের হয়ে আসেন চেয়ারম্যান মাহমুদুর রহমান রোজেন। কুড়িগ্রাম থেকে রাত টার দিকে ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড পৌঁছলে তার সমর্থকরা ফুলের মালা দিয়ে তাকে বরণ করেন। পরে একটি আনন্দ মিছিল নিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনে হামলা চালানোর চেষ্টা করে।

পুলিশের বাধা পেয়ে বিক্ষোভকারীরা মিছিল নিয়ে বাজারের দিকে অগ্রসর হয়ে চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে পাবলিক লাইব্রেরি ও ক্লাবের চেয়ার-টেবিল,প্রেস ক্লাবের দরজা-জানালা ভাংচুর করে সময় সাবরেজিস্ট্রার ফখরুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করে। পরে জননী বস্ত্রালয়ের মালিক এবং উত্তর ধরলা মোটর-মালিক সমিতির সহ-সভাপতি মহাদেব সাহাকে মেরে মাথা ফাটিয়ে দেন চেয়ারম্যান। আহত মহাদেব সাহাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে অবস্থার অবনতি হলে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজে প্রের করা হয়।

উত্তর ধরলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বলেন,চেয়ারম্যান কর্তৃক সাধারণ মানুষ প্রায় হামলার শিকার হয়ে আসছেন। চেয়ারম্যানের প্রভাবে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন

অফিসার ইনচার্জ  মুহা. আতিয়ার রহমান জানানমিছিল নিয়ে চেয়ারম্যান কর্তৃক ব্যবসায়ীকে মারধরের ঘটনা শুনেছি। তবে এখন কেউ অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা দীপক কুমার দেব শর্মা বলেন,চেয়ারম্যানের এমন আচরণে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে উপজেলাবাসী। হামলার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য,গত ১১ ডিসেম্বর বিকালে ভূরুঙ্গামারী প্রেস ক্লাব সম্পাদক এমদাদুল হক মন্টুকে মাথায় আঘাত করে হত্যার চেষ্টা করেন চেয়ারম্যান একেএম মাহমুদুর রহমান রোজেন। এ ঘটনায় এমদাদুল হক মন্টু বাদী হয়ে ১৩ ডিসেম্বর ভূরুঙ্গামারী থানায় একটি মামলা করলে ১৪ ডিসেম্বর চেয়ারম্যানকে  গ্রেফতার করে পুলিশ জেলহাজতে পাঠায়।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন