বাঘায় কৃত্রিম জলাবদ্ধতা, মরছে আমগাছ

 আমানুল হক আমান,বাঘা (রাজশাহী) 
২৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৭:১৫ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
শত শত বিঘার জমিতে আমগাছের গোড়ায় পানি জমে মরে যাচ্ছে।
শত শত বিঘার জমিতে আমগাছের গোড়ায় পানি জমে মরে যাচ্ছে।

রাজশাহীর বাঘায় অধিকাংশ বিলে অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে সৃষ্টি হয়ে আছে জলাবদ্ধতা। ফলে চাষীরা চৈতালীর আবাদ করতে পারছেন না। চৈতালীর আবাদ করতে না পেরে মানবেতর জীবনযাপন করছেন অনেকে। পাশাপাশি শত শত বিঘার জমিতে আমগাছের গোড়ায় পানি জমে মরে যাচ্ছে।

জানা গেছে, উপজেলার বলিহার বিল, আড়পাড়া বিল, তেথুলিয়া বিল, নওটিকা বিল, আরিফপুর বিল, দন্দ বিল, আমোদপুর বিল, হরিপুর বিল, বেড়েরবাড়ি বিল, খুদে ছয়ঘটি বিল, জোতরাঘব, চন্ডিপুর, পাকুড়িয়া, মনিগ্রাম, গড়গড়ি, হাবাসপুর বিলে এলাকার অপরিকল্পিতভাবে অসংখ্য পুকুর খনন করা হয়েছে। ফলে এ বিলে বিভিন্ন উৎপাদিত ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় জলাবদ্ধতা হয়ে আছে। গত ২-৩ বছর ধরে এলাকার কৃষকরা এসব বিলে ফসল ফলাতে পারছেন না। যেসব জমিতে বিগত সময়ে এক বছরে তিন ধরনের ফসল উৎপাদন হতো। বর্তমানে কোনো মৌসুমে তা হচ্ছে না। ফলে শত শত কৃষক মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এদিকে ৫-৮ বছর আগের রোপণ করা আমগাছ মরে যাচ্ছে।

খুদে ছয়ঘটি গ্রামের কৃষক হাফিজুর রহমান, বারখাদিয়া গ্রামের রবিউল ইসলাম, জোতরাঘব গ্রামের  ইউনিয়ন সদস্য চঞ্চল মাহমুদ জানান, বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন বিলগুলোতে যেভাবে পানি জমে আছে, তা নদীর সাথে ড্রেন করে অতিসত্বর পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করা দরকার। আর তা না হলে যতটুকু আবাদি জমি রয়েছে, সেটুকু সারা বছর জলাবদ্ধতা হয়ে থাকবে। এমনকি চৈতালী আবাদও করা হবে না।

এ বিষয়ে বাজুবাঘা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ফিরোজ আহাম্মেদ রঞ্জু, পাকুড়িয়ার চেয়ারম্যান মেরাজুল ইসলাম, বাউসার চেয়ারম্যার শফিকুর রহমান, আড়ানীর চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম জানান, বাঘা উপজেলা কৃষিপ্রধান এলাকা। এ উপজেলায় সব ধরনের ফসল উৎপাদিত হয়। কিছু মানুষ অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খনন করায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে। এ থেকে প্রতিকার করা দরকার।

বাউসা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর ও তেথুলিয়া গ্রামের নাজিমুল হক নাজিম জানান, তেথুলিয়া বিলে অসংখ্য পুকুর খনন করা হয়েছে। ফলে পানি বের হতে পারছে না। তাই কৃষকরা চৈতালীর আবাদ করতে পারছে না। আমার ৭-৮ বছর আগে রোপণ করা প্রায় ৫০টির মতো আমগাছ মরে গেছে।

তেথুলিয়া বালিকা বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ও মাউদপাড়া গ্রামের রেজাউল করিম বাদশা, আড়পাড়া গ্রামের মানিক হোসেন, আনোয়ার হোসেন পলাশ জানান, শতাধিক কৃষকের ৩ থেকে ৪ হাজার আমগাছের গোড়ায় পানি জমে মরে গেছে। এছাড়া পানি জমে থাকার কারণে চৈতালীর আবাদও করতে পারছি না।

বাঘা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শফিউল্লাহ সুলতান জানান, অপরিকল্পিতভাবে পুকুর খননের কারণে জলাবদ্ধতায় সৃষ্টি হয়ে আছে। এ সমস্যা নিরসন করা খুব কঠিন। প্রকল্পের মাধ্যমে মাটির নিচ দিয়ে ড্রেন করে বিলের জমে থাকা পানি নিষ্কাশন করা সম্ভব। তবে এ বিষয়ে  বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও কৃষি মন্ত্রণালয়কে অবগত করা হয়েছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন