আদালত চত্বরে ধর্ষণ মামলার আসামির সঙ্গে তরুণীর বিয়ে

 ঝালকাঠি প্রতিনিধি 
২০ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:৪৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ঝালকাঠির আদালত চত্বরে ধর্ষণ মামলার আসামির সঙ্গে নির্যাতিত তরুণীর বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। ঝালকাঠির অবকাশকালীন জেলা ও দায়রা জজ মো. শহিদুল্লাহর নির্দেশে রোববার দুপুরে দুইপক্ষের উপস্থিতিতে বিয়ে পড়ান কাজী মাওলানা মো. সৈয়দ বশির।

জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর বিয়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এ বিয়ের বর হলেন বরিশাল জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগাতি গ্রামের আনোয়ার সরদারের ছেলে নাঈম সরদার (২২)। বিয়ের পর নাঈমের জামিন মঞ্জুর করেন বিচারক মো. শহিদুল্লাহ।

পাবলিক প্রসিকিউটর আবদুল মান্নান রসুল জানান, ঝালকাঠি সদর উপজেলার এক তরুণী গত ৮ নভেম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করা হয়েছে মর্মে একটি নালিশি মামলা দায়ের করেন। বিচারক ভিকটিমের অভিযোগ ঝালকাঠি থানায় এফআইআর  হিসেবে রেকর্ডের নির্দেশ দেন। ১২ নভেম্বর ঝালকাঠি থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনের ৯(১) ধারায় এফআইআর  রেকর্ড হলে একমাত্র আসামি নাঈমের বাবা আনোয়ার হোসেন ছেলেকে ১৩ নভেম্বর ঝালকাঠি থানায় সোপর্দ করেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই  নাজমুজ্জামান আসামিকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে প্রেরণ করেন। আদালত নাঈমের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে প্রেরণ করেন। রোববার অবকাশকালীন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে আসামির জামিন শুনানির সময় আসামিপক্ষ ভিকটিমকে বিয়ের আগ্রহ প্রকাশ করে। এতে নির্যাতিত পক্ষ রাজি হলে বিচারক মো. শহিদুল্লাহ আদালত চত্বরেই ৫ লাখ টাকা দেনমোহরে বিবাহের নির্দেশ দেন।

আদালত চত্বরে আসামি, ভিকটিম ও উভয়পক্ষের আইনজীবীদের উপস্থিতিতে বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিবাহের আনুষ্ঠানিকতা শেষে আদালতে কাগজপত্র জমা দিলে শুনানি শেষে ২০ হাজার টাকা বন্ডে আসামির জামিন মঞ্জুর করেন আদালত।

২০১৯ সালের প্রথমদিকে ওই তরুণীর সঙ্গে নাঈমের মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পরিচয় এবং প্রেম হয়। গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাত ১০টায় বাড়ির পেছনের বাগানে মোবাইলে ডেকে এনে তরুণীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে নাঈম।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন