শ্রীমঙ্গলে সিলেট বিভাগে প্রথম টেস্টটিউব পদ্ধতিতে চিকিৎসা শুরু

 শ্রীমঙ্গল (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি 
২০ ডিসেম্বর ২০২০, ০৩:১৩ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

মৌলভীবাজার জেলার শ্রীমঙ্গলে সিলেট বিভাগে প্রথম টেস্টটিউব পদ্ধতিতে শিশু জন্ম দেয়ার চিকিৎসা শুরু করেছে 'দীপশিখা ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টার'।

সন্তান জন্মদানে অক্ষম নারী-পুরুষদের আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতি প্রয়োগ করে স্বল্প খরচে (আড়াই থেকে তিন লাখ টাকার মধ্যে) টেস্টটিউব পদ্ধতিতে সন্তান জন্ম দিতে পারবেন।
 
এমনকি ভারতে গিয়ে বন্ধ্যত্বের যে চিকিৎসা পাওয়া যায় সেই মানের চিকিৎসা এখন থেকে কম খরচে বাংলাদেশের শ্রীমঙ্গলে পাওয়া যাবে বলেও জানান দীপশিখা ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা বন্ধ্যত্ব চিকিৎসক নিবাস চন্দ্র পাল।

তার তত্ত্বাবধানে প্রসূতি, স্ত্রীরোগ ও বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার সব ধরনের আধুনিক সুযোগ-সুবিধা নিয়ে শ্রীমঙ্গলে গড়ে উঠেছে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল।

এ উপলক্ষে শনিবার শহরের কলেজ রোডে স্থাপিত দীপশিখা ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টারের কনফারেন্স রুমে শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময়সভা অনুষ্ঠিত হয়।

এ সময় ডা. নিবাস গবেষণার একটি তথ্য সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, মোবাইল ফোন প্যান্টের পকেটে রাখার কারণে কল আসার সময় ক্ষতিকর তরঙ্গ বিকিরণ করে শুক্রাণুর ওপর প্রভাব ফেলে। ফলে পুরুষদের শুক্রাণুর ঘনত্ব কমে গিয়ে তাদের প্রজননতন্ত্রের ক্ষতি করে।

দীপশিখা ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টারের চেয়ারম্যান দীপশিখা ধর জানান, তার সেন্টারে ইতিমধ্যে ২৫৪ বন্ধ্যত্ব রোগীর ফার্টিলিটি প্রমোটিং সার্জারি হয়েছে এবং এদের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য প্রায় ১০৯ জনের। এ ছাড়া প্রতিমাসে ১২০-১২৫ রোগীর শুক্রাণু পরীক্ষা করা হয়।

তিনি বলেন, দীপশিখা ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড কাউন্সেলিং সেন্টারের যাত্রা শুরু হয় ২০১২ সালে। প্রথম দিকে রোগীদের বন্ধ্যত্ব সম্পর্কে কাউন্সেলিং, হরমোন ও বীর্য পরীক্ষা এবং মেডিকেল ট্রিটমেন্ট দিয়েই শুরু করা হয় বন্ধ্যত্ব চিকিৎসার কাজ। এতে সাফল্য আসে প্রায় ১৮ শতাংশ।

পরবর্তী সময় ফার্টিলিটি প্রমোটিং সার্জারি ও ইনট্রা ইউটারিন ইনসেমিনেশন (আইইউআই) পদ্ধতির মাধ্যমে আরও উন্নত চিকিৎসাসেবা শুরু করা হয়। এটির মাধ্যমে এ পর্যন্ত ৩৩১টি দম্পতি চিকিৎসা নিয়েছেন। ইতিমধ্যে সাফল্য পেয়েছেন ৪৯ দম্পতি। এ সাফল্যের হার আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে তিনি জানান।

তিনি বলেন, ২০২০ সালে ইনফার্টিলিটির পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসাসেবা দেয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যায় এ প্রতিষ্ঠানটি। তবে কিছুটা বাধাপ্রাপ্ত হয় করোনার কারণে। তার পরও গত নভেম্বর মাসে ইন ভিটরো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ) ল্যাব সেটআপ করা হয়। যারা ভারতে গিয়ে ইনফার্টিলিটির চিকিৎসা নেন; এর মাধ্যমে এখন দেশের শ্রীমঙ্গলেই এ চিকিৎসা দেয়া সম্ভব।

এই সেন্টারে এখন থেকে ইন ভিটরো ফার্টিলাইজেশন ল্যাবের সর্বাধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে স্পার্ম ফ্রিজিং থেকে শুরু করে সব ধরনের প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা দেয়া হয়।

প্রেস ব্রিফিংয়ে উপস্থিত ছিলেন বালাগঞ্জ ডিগ্রি কলেজের অধ্যাপক অবিনাশ আচার্য, শ্রীমঙ্গল প্রেসক্লাবের সভাপতি বিশ্বজ্যোতি চৌধুরী, সহসভাপতি ইসমাইল মাহমুদ, ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ইমাম হোসেন সোহেল ও যুগান্তর প্রতিনিধি সৈয়দ সালাউদ্দিনসহ অন্য সাংবাদিকরা। 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন