ধর্ষণ ও আত্মহত্যার প্ররোচনায় বরিশালে যুবকের যাবজ্জীবন

 বরিশাল ব্যুরো 
১৩ ডিসেম্বর ২০২০, ০৬:২৪ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

বরিশালে ২০১৬ সালে ধর্ষণ এবং আত্মহত্যার প্ররোচণার ঘটনায় আসামি সায়েম আলম মিমুকে ধর্ষণের দায়ে যাবজ্জীবন এবং আত্মহত্যার প্ররোচণার দায়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল। এ রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন ভিকটিমের পরিবার।

রোববার বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আবু শামীম আজাদ এ রায় ঘোষণা করেন।

ওই আদালেতের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট ফয়জুল হক ফয়েজ জানান, ধর্ষণের দায়ে আসামি মিমুকে (৩০) যাবজ্জীবন ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, আত্মহত্যার প্ররোচণার দায়ে ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও ২৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়। এছাড়া চুরির কারণে ৫ বছরের কারাদণ্ড এবং ৫ হাজার টাকা জরিমানা প্রদান করা হয়।

২০১৬ সালের ১০ আগস্ট বরিশাল নগরীর মুসলিম গোরস্থান রোডের বাসিন্দা ও এসএসসি পরীক্ষার্থী নাঈমা ইব্রাহিম ঈশীর লাশ চকবাজারের হোটেল ফেয়ার স্টার থেকে উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় তার বাবা ইব্রাহিম খলিল বাদী হয়ে ওই দিনই কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার সূত্র ধরে পুলিশ ওই হোটেলের মালিক আবদুর বিশ্বাস এবং ম্যানেজার মজিবুর রহমান আকনকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের দেয়া তথ্যানুসারে ফেসবুক প্রেমিক সায়েম আলম মিমুকে গ্রেফতার করে পুলিশ।

মামলার বিবরণে জানা যায়, ওই হোটেলের ৩০৯নং কক্ষ স্বামী-স্ত্রী পরিচয়ে ভাড়া নেয়া হয়। এরপর ঈশীকে ধর্ষণ করে মিমু। ধর্ষণের ঘটনায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে হোটেলের ওই কক্ষের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে দড়িতে ঝুলে আত্মহত্যা করে ঈশী। এ সময় তার মোবাইল ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে আসামি মিমু পালিয়ে যায়। অসামাজিক কার্যকলাপ তৈরির সুযোগ করে দেয়ায় হোটেল মালিক ও ম্যানেজারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। এ ঘটনায় ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ চার্জশিট দাখিল করা হয়।

১৯ জনের সাক্ষ্যপ্রমাণ শেষে হোটেল মালিক ও ম্যানেজারের সঙ্গে ঘটনার সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদের খালাস প্রদান করেন। আর সায়েমের সংশ্লিষ্টতা প্রমাণিত হওয়ায় তার বিরুদ্ধে আদালত উক্ত রায় প্রদান করেন।

ভিকটিমের বাবা ইব্রাহিম খলিল এ রায়ে সন্তুষ্ট হয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানিয়েছেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন