বুক ফাটা কান্না কেউ দেখে না

 মো. মামুন তানভীর, দশমিনা দক্ষিণ (পটুয়াখালী) থেকে 
১২ ডিসেম্বর ২০২০, ০৯:০৮ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
ফুল বিবি কখনও কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি।
ফুল বিবি কখনও কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি।

ফুল বিবির বয়স শতক ছুঁই ছুঁই। কিশোরী বয়স থেকেই জীবনটা কষ্টের ও শোকের। তার জীবনে কখনও সুখের দেখা মেলেনি। শোক আঁকড়ে জীবনের পথ চলেছেন। অবহেলায় আর অনাদরে তিনি পার করেছেন জীবনের সেরা সময়টাও।

 

কিশোরী অবস্থায় ষাটের দশকে পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া ইউনিয়নের কপুলকাঠী গ্রামের মতলেব চৌকিদারের সাথে বিয়ে হয় ফুল বিবির। সেই সংসারে পর্যায়ক্রমে দুটি ছেলে ও দুটি মেয়ে জন্ম হয়। ঘর আলোকিত করে চার সন্তান নিয়ে মোটামুটি ভালোই চলছিল অভাবী ফুল বিবি ও মতলেবের সংসার। কিন্তু সুখ স্থায়ী হয়নি ফুল বিবির।

 

সত্তর দশকের আগে মারা যায় তার স্বামী মতলেব চৌকিদার। শুরু হয় ফুল বিবির শোকের দিনগুলো। এরপর পর্যায়ক্রমে কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে ফুল বিবির চার সন্তানই পাড়ি জমান পরপারে। একা হয়ে যান ফুল বিবি। দেশ স্বাধীন হওয়ার আগে ফুল বিবি চলে আসেন দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নের কাউনিয়া গ্রামের বাবার ভিটায়। ফুল বিবির বাবা-মা বা ভাই বলতে কেউ বেঁচে নেই। নিজস্ব বলতে কোনো সম্বল নেই। ঠাঁই হয়েছে ভাই মৃত গণি মৃধার ছেলে মান্নান মৃধার ঝুপড়ি ঘরের বারান্দায়।

 

গণির নিজেরই টানাটানির সংসার। দুই ছেলে ও দুই মেয়ে এবং স্ত্রীকে নিয়ে দিনমজুর গণির নিজেরই সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হয়। গণি যে নিজের ফুফুকে আশ্রয় দিয়েছেন সেই ফুল বিবির কাছে বড় পাওনা।

 

সরেজমিন দেখা যায়, বার্ধক্যের কারণে বিভিন্ন রোগ-শোক নিয়ে বেঁচে আছেন। ঠিকমতো উঠে দাঁড়াতেও পারেন না।

 

ফুল বিবি যুগান্তরকে জানান, বৃদ্ধ বয়সে এখন চিকিৎসা দরকার তার।  শোক নিয়ে তিনি পার করেছেন জীবন। তিনি দশমিনার ভোটার। জীবনে কখনও তিনি সরকারি কোনো সুবিধা পাননি। জোটেনি বয়স্ক ভাতা।

 

স্থানীয় ফোরকান মিয়া জানান, ফুল বিবি কখনও কোনো সরকারি সুবিধা পায়নি। বৃদ্ধ ফুল বিবি কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। তার চিকিৎসা ও থাকার জন্য ভালো ব্যবস্থা দরকার। সরকারি কোন সহায়তা পেলে ফুল বিবি হয়ত সুন্দরভাবে কয়টা দিন বেঁচে থাকতে পারবেন।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন