ভোলায় লঞ্চের ধাক্কায় জেলে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ১

 যুগান্তর রিপোর্ট, ভোলা 
০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১০:৫১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ

ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার মেঘনা নদীতে ঢাকা-জাহাজমারা (হাতিয়া)-মনপুরা (ভোলা) নৌপথে চলাচলকারী একটি লঞ্চের ধাক্কায় মাছ ধরার ট্রলার ডুবে গেছে। এতে একজন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজ জেলে ও ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধারের চেষ্টা করছে কোস্টগার্ড।

রোববার সন্ধ্যায় তজুমদ্দিন উপজেলার চৌমুহনী লঞ্চঘাট থেকে ঢাকার দিকে ছেড়ে যাওয়ার সময় মেসার্স ফারহান নেভিগেশনের ফারহান-৪ নামক লঞ্চটি জেলে ট্রলারকে ধাক্কা দেয়। এসব তথ্য পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের।

জানা গেছে, ওই ট্রলারে ৬ জন জেলে ছিল। ৫ জন জেলে উদ্ধার হলেও আল আমীন (১৯) নামে এক জেলে নিখোঁজ রয়েছেন। উদ্ধারকৃত আহত জেলেরা তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন। ট্রলার মালিক ও আহতদের বাড়ি উপজেলার চাঁদপুর ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি গ্রামে।

জানতে চাইলে তজুমদ্দিন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পল্লব কুমার হাজরা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ট্রলারডুবির সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিখোঁজ জেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ডুবে যাওয়া ট্রলারের মালিক নুরনবী মাঝি (৩৫) জানান, তিনি নদীতে জাল ফেলে অপেক্ষা করছিলেন। সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে ফারহান লঞ্চটি এসে ধাক্কা দেয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই ট্রলারটি ডুবে যায়। ওই সময় ট্রলারে থাকা ৬ জেলে ডুবে যান। জেলে ট্রলারটি ডুবে গেলে আশপাশের ট্রলারের লোকজন এসে ৫ জন জেলেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হন। উদ্ধার হওয়া গুরুতর আহত  জেলেদের তজুমদ্দিন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

তারা আরও জানান, এ রুটে মেসার্স ফারহান নেভিগেশনের লঞ্চগুলোর বেপরোয়া গতির কারণে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে অনেকের প্রাণহানি হলেও কর্তৃপক্ষ এদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।

প্রত্যক্ষদর্শী ঘাট ইজারাদার মাহাবুবুর রহমান বলেন, চৌমুহনী ঘাট থেকে ফারহান লঞ্চটি ছেড়ে যাওয়ার পরেই লঞ্চটি পেছনে বেগার দিতে ট্রলারটি ধাক্কা দেয়। এতে নুরনবী মাঝির নৌকাটি ডুবে যায়।

ফারহান লঞ্চের ব্যবস্থাপক মো. ফারুকুর রহমান বলেন, ট্রলারটি যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচলের চ্যানেলে মাছ ধরতে ধরতে লঞ্চের কাছাকাছি আসার কারণে ধাক্কা খায়। লঞ্চের স্টাফরা সহযোগিতা করে ট্রলারে থাকা ৫ জনকে উদ্ধার করে। অন্য ট্রলারও এসে সহায়তা করেছে। কেউ নিখোঁজ নেই। তাদের বিরুদ্ধে একটি দল মিথ্যা খবর ছড়াচ্ছে।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন