নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সাবরেজিস্ট্রার ভবন নির্মাণ, বাধার মুখে কাজ বন্ধ

 বরিশাল ব্যুরো ও বাবুগঞ্জ প্রতিনিধি 
১৯ অক্টোবর ২০২০, ০৫:৩৬ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সাবরেজিস্ট্রার ভবন
নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে সাবরেজিস্ট্রার ভবন নির্মাণ

বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার রহমতপুর সাবরেজিস্ট্রার অফিসের ২ তলা ভবনের নির্মাণ কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। দলিল লেখকদের অভিযোগ পেয়ে সাবরেজিস্ট্রার মো. ইমরান খান ঘটনাস্থলে যাওয়ার পূর্বেই পালিয়ে যায় শ্রমিকসহ সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের লোকজন। নির্মাণের শুরু থেকেই সিডিউল অনুযায়ী কোনো কাজ হচ্ছে না বলে অভিযোগ দলিল লেখকদের। 

জানা গেছে, বরিশাল-ঢাকা মহাসড়কের পাশে ২ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে মাধবপাশা ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের পূর্ব রহমতপুর এলাকায় সাবরেজিস্ট্রার অফিসের দ্বিতল ভবন নির্মাণ কাজটি পায় মাহাফুজুর রহমানের এম খান গ্রুপ নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এ কাজের তত্ত্বাবধানে রয়েছে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগ। গত বছর এর নির্মাণকাজ শুরু হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা হস্তান্তর করতে পারেনি ঠিকাদার। কাজের ধীরগতি এবং ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে এ ভবন নির্মাণ কাজের শুরু থেকেই। 

সম্প্রতি রহমতপুর সাবরেজিস্ট্রার অফিসের লেখকরা সেখানে গিয়ে দেখতে পান খুব নিম্নমানের ইট এবং কাদা-মাটি মেশানো বালু দিয়ে দেয়াল নির্মাণ করা হচ্ছে। তারা বিষয়টি সাবরেজিস্ট্রার মো. ইমরান খানকে অবহিত করেন। তিনি সেখানে উপস্থিত হওয়ার পূর্বেই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের শ্রমিক ও ম্যানেজার পালিয়ে যায়। দলিল লেখকরা এ সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিম্নমানের কাজের প্রমাণ দিতে সাবরেজিস্ট্রারের নির্দেশে দেয়ালে ধাক্কা দিলে তা পড়ে যায়। এমনকি ২-৩ দিন পূর্বেরও দেয়ালেরও একই অবস্থা দেখা গেছে। এছাড়া ইটের অবস্থা এতটাই খারাপ যে কেউ অনায়াসে বলতে পারবে এ ঠিকাদারের কাজের মান কেমন।

সাবরেজিস্ট্রার ইটের মান দেখে হতবাক হয়েছেন। এ সময় দলিল লেখকরা সাবরেজিস্ট্রারকে অবহিত করেন শুধু ইটের গাঁথুনি নয়, ভবন উত্তোলনের পূর্বে যে পাইলিং করা হয়েছে তাও সিডিউল অনুযায়ী করা হয়নি। এমনকি রড থেকে শুরু করে ছাদ ঢালাইয়ের কাজে নিম্নমানের পাথর ব্যবহার করা হয়েছে। এসব অনিয়মের সঙ্গে জড়িত রয়েছে গণর্পূত বিভাগের কর্মকর্তারা- এ দাবি করেছেন সাবরেজিস্ট্রার ও দলিল লেখকরা। নির্মাণ কাজের শুরু থেকে গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলীদের থাকার কথা। সেখানে মাঝে মধ্যে প্রকৌশলীদের দেখা মিললেও বেশিরভাগ সময় তারা অনুপস্থিত থেকেছেন। আর এর সুবিধা নিয়েছে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান।

এ ব্যাপারে সাবরেজিস্ট্রার মো. ইমরান খান বলেন, নিম্নমানের সামগ্রী ও দুই নম্বর ইট দিয়ে যে কাজ করছে তা বড় ধরনের দুর্নীতি; যা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হচ্ছে। কিছুতেই এ অবস্থায় এ কাজ করতে দেয়া হবে না। ঠিকাদার মাহফুজুর রহমান বলেন, নিম্নমানের ইট মেঝেতে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে কিন্তু শ্রমিকরা না বুঝে দেয়াল গাঁথুনিতে ব্যবহার করেছেন। তিনি ভালোমানের ইট দিয়ে পুনরায় দেয়াল নির্মাণের কথা বলেছেন। 

অভিযোগ প্রসঙ্গে বরিশাল গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী জেরান্ড অলিভার গুদা যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি জানার পর ঘটনাস্থলে প্রকৌশলী পাঠিয়ে তদন্তসাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কোনোভাবেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করতে পারবে না ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন