বাগাতিপাড়ায় মাঠের মাঝে অকেজো ব্রিজ

 বাগাতিপাড়া (নাটোর) প্রতিনিধি 
১৭ জানুয়ারি ২০২০, ০৯:৩১ পিএম  |  অনলাইন সংস্করণ
মাঠের নিষ্প্রাণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে মাঝে নির্মিত ব্রিজটি
মাঠের নিষ্প্রাণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে মাঝে নির্মিত ব্রিজটি

নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলার কালিকাপুর গ্রামে মাঠের মাঝে নির্মিত ব্রিজটি যেন নিষ্প্রাণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে। দুই বছর আগে নির্মাণ করা হয়েছে ব্রিজটি; কিন্তু নির্মাণ করা হয়নি সংযোগ সড়ক।

ফলে ২১ লাখ টাকার ২৬ ফুট দৈর্ঘ্যরে এ ব্রিজটির কোনো সুফল পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। উল্টো দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে আশপাশের তিন গ্রামের সাধারণ মানুষকে।

ব্রিজটির দু’পাশে রাস্তার নামমাত্র অস্তিত্ব দেখা গেলেও পর্যাপ্ত মাটি ভরাটের অভাবে রাস্তাটি চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় স্থানীয়রা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।

এলাকাবাসী জানান, এলাকাটি কৃষিপ্রধান হওয়ায় উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর, চাপাপুকুর, কৈচরপাড়া গ্রামের মাঠে ধান, গম, মসুর, সরিষাসহ নানা ধরনের ফসল আবাদ হয়। সেসব ফসল মাঠ থেকে কৃষক ভ্যান, পাওয়ার টিলার ও মহিষের গাড়িতে করে সমতলের ওই রাস্তা দিয়ে পরিবহন করতেন। এরপর গত দু’বছর আগে হঠাৎই মাঠের মাঝে ওই রাস্তায় ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু ব্রিজের সঙ্গে সংযোগ সড়ক তৈরি করা হয়নি। এর ফলে সমতলের রাস্তাটিও এখন আর ব্যবহার করতে পারছেন না কৃষক।

ব্রিজের সঙ্গে সংযোগ সড়ক ও রাস্তার মাটি কেটে উঁচু না করায় ব্রিজের পাশ দিয়ে অন্যের জমি দিয়ে কৃষিপণ্য আনা-নেয়া করতে হচ্ছে। এলাকাবাসীর দুর্ভোগ রোধে দ্রুত মাটি ভরাট করে রাস্তাটি চলাচলের উপযোগী করার দাবি জানিয়েছেন এসব এলাকার কৃষকসহ সাধারণ মানুষ।

সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, মাঠের মাঝখানে ব্রিজটি তৈরি করা হয়েছে। ব্রিজের গোড়ায় কিছুটা মাটি ভরাট করা হলেও বাকি রাস্তায় কোনো মাটি দেয়া হয়নি। ফলে সামান্য জায়গায় মাটি ভরাট করায় ব্রিজটি কোনো কাজে আসছে না। ব্রিজটিও অকার্যকর অবস্থায় পড়ে আছে।

প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার জামনগর ইউনিয়নের কালিকাপুর-চাপাপুকুর সংযোগ রাস্তায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ওই ব্রিজ নির্মাণ করা হয়। গ্রামীণ রাস্তায় সেতু প্রকল্পের আওতায় পিআইও দফতরের অধীনে ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। ২১ লাখ টাকা ব্যয়ে ২৬ ফুট দীর্ঘ ব্রিজটি দুই বছর আগে নির্মাণ কাজ শেষ হয়েছে।

এ ব্যাপারে অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আল আমিন সরকার বলেন, তিনি সিংড়া উপজেলায় কর্মরত এবং বাগাতিপাড়া উপজেলায় অতিরিক্ত দায়িত্বে রয়েছেন। আগের কর্মকর্তার সময়ে ত্রাণের এ ব্রিজটি নির্মাণ করা হয়েছে। তিনি এ সম্পর্কে তেমন কিছু জানেন না।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন
জেলার খবর
অনুসন্ধান করুন