ট্যুর বিড়ম্বনা
jugantor
ট্যুর বিড়ম্বনা

  জান্নাতুল ইভা  

০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিয়ের আগে নিজেকে নিয়ে বড়াই করে বান্ধবীদের বলতাম, ‘দেখিস, বিয়ের পরে কি ট্যুরটাই না দিই জামাইকে সঙ্গে নিয়ে। তোদের মতো গাড়িতে উঠলেই বমি করার অভ্যাস নাই আমার। সারা দিন জার্নি করলেও আমার কোনো প্রবলেম হয় না।’

কিন্তু প্রবলেম একটাই। আম্মু আমাকে কোনো ট্যুরেই যেতে দেয় না। কোথাও যাওয়ার কথা শুনলেই বলে, ‘বিয়ের পরে জামাইকে নিয়ে সুইজারল্যান্ড, আমেরিকা যেখানে খুশি চলে যেও, তখন আর কেউ আটকাবে না।’

অতঃপর সে আশাতেই নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে বসে আছি। মনে মনে ভাবি, আমার বর আমাকে নিয়ে ভীষণ খুশিই হবে। কারণ তার বউ জার্নি করলে অন্য মেয়েদের মতো বমি-টমি করে বসে না। মাথা ঘোরা, বমি- এসবের জন্য আমার বান্ধবী এশা তো কোথাও ঘুরতেই যেতে পারে না। সেদিক থেকে আমার বর এমন বউ পেয়ে খুশিতে প্রত্যেক মাসেই ট্যুর দেবে নিশ্চিত।

অতঃপর বিয়ের পরে ইফতিকে নিয়ে হানিমুনে সাজেক যাচ্ছি। মনের সুখে ওর সঙ্গে স্লো-মোশনে ডিভিও করছিলাম। এমন সময় ভিডিওতে দেখলাম ইফতি বমি করছে! তাড়াতাড়ি ওকে জানালার পাশে বসালাম। এটা কী হল! আমি হতভাগ!

ইফতি নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘আমার তো আগে থেকেই এমন সমস্যা। গাড়িতে উঠলেই মাথা ঘোরায়, বমি বমি পায়। এজন্য আমার বন্ধুদের সঙ্গে কত ট্যুরে যাওয়া যে ক্যান্সেল করে দিয়েছি! কিন্তু হানিমুন তো করতেই হবে। তুমি কিছু মনে কর না, এরপর আগামী এক বছর পর্যন্ত আমরা আর দূরে কোথাও ট্যুর দেব না!’

ইফতির কথা শুনে আমি উদাস হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আম্মুর কথা মনে পড়তেই বারবার ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছিলাম। অনেক কষ্টে নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম, ভাগ্যিস আমি ইফতির কপালে ছিলাম। নয় তো বর-বউ একসঙ্গে বমি করলে কী অবস্থাটাই না হতো!

ট্যুর বিড়ম্বনা

 জান্নাতুল ইভা 
০৬ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিয়ের আগে নিজেকে নিয়ে বড়াই করে বান্ধবীদের বলতাম, ‘দেখিস, বিয়ের পরে কি ট্যুরটাই না দিই জামাইকে সঙ্গে নিয়ে। তোদের মতো গাড়িতে উঠলেই বমি করার অভ্যাস নাই আমার। সারা দিন জার্নি করলেও আমার কোনো প্রবলেম হয় না।’

কিন্তু প্রবলেম একটাই। আম্মু আমাকে কোনো ট্যুরেই যেতে দেয় না। কোথাও যাওয়ার কথা শুনলেই বলে, ‘বিয়ের পরে জামাইকে নিয়ে সুইজারল্যান্ড, আমেরিকা যেখানে খুশি চলে যেও, তখন আর কেউ আটকাবে না।’

অতঃপর সে আশাতেই নিজেকে সান্ত্বনা দিয়ে বসে আছি। মনে মনে ভাবি, আমার বর আমাকে নিয়ে ভীষণ খুশিই হবে। কারণ তার বউ জার্নি করলে অন্য মেয়েদের মতো বমি-টমি করে বসে না। মাথা ঘোরা, বমি- এসবের জন্য আমার বান্ধবী এশা তো কোথাও ঘুরতেই যেতে পারে না। সেদিক থেকে আমার বর এমন বউ পেয়ে খুশিতে প্রত্যেক মাসেই ট্যুর দেবে নিশ্চিত।

অতঃপর বিয়ের পরে ইফতিকে নিয়ে হানিমুনে সাজেক যাচ্ছি। মনের সুখে ওর সঙ্গে স্লো-মোশনে ডিভিও করছিলাম। এমন সময় ভিডিওতে দেখলাম ইফতি বমি করছে! তাড়াতাড়ি ওকে জানালার পাশে বসালাম। এটা কী হল! আমি হতভাগ!

ইফতি নিজেকে সামলে নিয়ে বলল, ‘আমার তো আগে থেকেই এমন সমস্যা। গাড়িতে উঠলেই মাথা ঘোরায়, বমি বমি পায়। এজন্য আমার বন্ধুদের সঙ্গে কত ট্যুরে যাওয়া যে ক্যান্সেল করে দিয়েছি! কিন্তু হানিমুন তো করতেই হবে। তুমি কিছু মনে কর না, এরপর আগামী এক বছর পর্যন্ত আমরা আর দূরে কোথাও ট্যুর দেব না!’

ইফতির কথা শুনে আমি উদাস হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে রইলাম। আম্মুর কথা মনে পড়তেই বারবার ডিপ্রেশনে চলে যাচ্ছিলাম। অনেক কষ্টে নিজেকে সান্ত্বনা দিলাম, ভাগ্যিস আমি ইফতির কপালে ছিলাম। নয় তো বর-বউ একসঙ্গে বমি করলে কী অবস্থাটাই না হতো!

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন