করোনাবিষয়ক গবেষণায় সাফল্য: উচ্চতর গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে
jugantor
করোনাবিষয়ক গবেষণায় সাফল্য: উচ্চতর গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে

  সম্পাদকীয়  

২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে করোনার টিকা আবিষ্কারে সফল হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, অল্প কিছুদিনের মধ্যে আরও অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান এ কাজে সফল হবে। করোনাভাইরাস বারবার রূপ বদল করে। ফলে আমাদের দেশে কোন প্রতিষ্ঠানের টিকা বেশি উপযোগী- দেশে করোনা নিয়ে যেসব গবেষণা হয়েছে, সেসবের মাধ্যমে এর জবাব মিলবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণাও এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারে। চট্টগ্রামে ছড়ানো করোনার সঙ্গে ছয় দেশের করোনার মিল খুঁজে পেয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা। ৩৩টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে ১২৬টি স্থানে মিউটেশন হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন তারা।

বিশ্ববাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে- কবে আবিষ্কৃত হবে করোনার নিরাপদ ও কার্যকর টিকাসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ। যেহেতু বাংলাদেশ ওষুধশিল্পে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, সেহেতু অন্য দেশে করোনার প্রতিষেধক তৈরি হলে আমাদের দেশেও তা তৈরির প্রচেষ্টা শুরু হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের উল্লিখিত সাফল্য দেশে করোনার প্রতিষেধক তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। উন্নত যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে দেশের গবেষকরা স্থানীয়ভাবে ওষুধশিল্পের বিকাশে এবং উচ্চতর গবেষণায় সফল হবেন, এটা আশা করা যায়।

ইতোমধ্যে বিশ্বে আবিষ্কৃত টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথাও জানা যাচ্ছে। এসব টিকার পরিবহন ও সংরক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ ক্ষেত্রে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে তা যথাসময়ে জোগাড় করাও এক চ্যালেঞ্জ। আবিষ্কৃত টিকার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হচ্ছে, প্রতিটি দেশেরই এ টিকা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা জরুরি।

এটা সম্ভব না হলে এ খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। দেশে করোনা নিয়ে গবেষণায় সাফল্যের খবর প্রকাশের পর অনেকে জানতে চাইবেন, এসব আবিষ্কারের সূত্র ধরে আমাদের বিজ্ঞানীদের পক্ষে করোনার টিকা আবিষ্কার করা সম্ভব কিনা।

যে কোনো রোগের টিকা আবিষ্কারের কাজটি বেশ জটিল। বস্তুত কোনো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে একটি গবেষক দলের যে সক্ষমতা সৃষ্টি হয়- এর মধ্য দিয়ে উচ্চতর গবেষণার জগতে প্রবেশের বহু পথ বেরিয়ে আসে; যার প্রতিটির শেষ প্রান্তে থাকে মানবজাতির জন্য বড় ধরনের সুখবর। দেশের প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কেন্দ্রে এমন গবেষণা অব্যাহত থাকলে আমাদের দেশের গবেষকদের পক্ষে মানবকল্যাণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখা সম্ভব।

করোনাবিষয়ক গবেষণায় সাফল্য: উচ্চতর গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে

 সম্পাদকীয় 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে করোনার টিকা আবিষ্কারে সফল হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, অল্প কিছুদিনের মধ্যে আরও অনেক দেশ ও প্রতিষ্ঠান এ কাজে সফল হবে। করোনাভাইরাস বারবার রূপ বদল করে। ফলে আমাদের দেশে কোন প্রতিষ্ঠানের টিকা বেশি উপযোগী- দেশে করোনা নিয়ে যেসব গবেষণা হয়েছে, সেসবের মাধ্যমে এর জবাব মিলবে।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণাও এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ভূমিকা রাখতে পারে। চট্টগ্রামে ছড়ানো করোনার সঙ্গে ছয় দেশের করোনার মিল খুঁজে পেয়েছেন এ বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক। চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করেছেন তারা। ৩৩টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে ১২৬টি স্থানে মিউটেশন হয়েছে বলে তথ্য দিয়েছেন তারা।

বিশ্ববাসী অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে- কবে আবিষ্কৃত হবে করোনার নিরাপদ ও কার্যকর টিকাসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ। যেহেতু বাংলাদেশ ওষুধশিল্পে অনেক দূর এগিয়ে গেছে, সেহেতু অন্য দেশে করোনার প্রতিষেধক তৈরি হলে আমাদের দেশেও তা তৈরির প্রচেষ্টা শুরু হবে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক দলের উল্লিখিত সাফল্য দেশে করোনার প্রতিষেধক তৈরিতে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা যায়। উন্নত যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় সহযোগিতা পেলে দেশের গবেষকরা স্থানীয়ভাবে ওষুধশিল্পের বিকাশে এবং উচ্চতর গবেষণায় সফল হবেন, এটা আশা করা যায়।

ইতোমধ্যে বিশ্বে আবিষ্কৃত টিকার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার কথাও জানা যাচ্ছে। এসব টিকার পরিবহন ও সংরক্ষণ অত্যন্ত ব্যয়বহুল। এ ক্ষেত্রে যে পরিমাণ অর্থ ব্যয় হবে তা যথাসময়ে জোগাড় করাও এক চ্যালেঞ্জ। আবিষ্কৃত টিকার বিভিন্ন দিক পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট হচ্ছে, প্রতিটি দেশেরই এ টিকা তৈরির সক্ষমতা অর্জন করা জরুরি।

এটা সম্ভব না হলে এ খাতে বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করতে হবে। দেশে করোনা নিয়ে গবেষণায় সাফল্যের খবর প্রকাশের পর অনেকে জানতে চাইবেন, এসব আবিষ্কারের সূত্র ধরে আমাদের বিজ্ঞানীদের পক্ষে করোনার টিকা আবিষ্কার করা সম্ভব কিনা।

যে কোনো রোগের টিকা আবিষ্কারের কাজটি বেশ জটিল। বস্তুত কোনো গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কারের মধ্য দিয়ে একটি গবেষক দলের যে সক্ষমতা সৃষ্টি হয়- এর মধ্য দিয়ে উচ্চতর গবেষণার জগতে প্রবেশের বহু পথ বেরিয়ে আসে; যার প্রতিটির শেষ প্রান্তে থাকে মানবজাতির জন্য বড় ধরনের সুখবর। দেশের প্রতিটি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা কেন্দ্রে এমন গবেষণা অব্যাহত থাকলে আমাদের দেশের গবেষকদের পক্ষে মানবকল্যাণে বড় ধরনের ভূমিকা রাখা সম্ভব।

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন