বিমান বহরে ‘ধ্রুবতারা’: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য
jugantor
বিমান বহরে ‘ধ্রুবতারা’: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য

  সম্পাদকীয়  

২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ০০:০০:০০  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার গণভবনে কর্মব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০টি ফায়ার স্টেশন, ছয়টি পাসপোর্ট অফিস, মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার, একটি এলপিজি স্টেশন এবং নতুন উড়োজাহাজ ‘ধ্রুবতারা’ উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন।

বিমানের নতুন উড়োজাহাজ ড্যাশ ৮-৪০০ ‘ধ্রুবতারা’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা সেই সব বিমান ক্রয় করছি যেগুলো সব থেকে আধুনিক ও উন্নতমানের।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘নতুন উড়োজাহাজের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হব।’

দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা যদি আমাদের আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ বাড়াতে পারি তাহলে সব দিক থেকে আমাদের উন্নতি হতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। বর্তমান সময়টি হল কানেকটিভিটির যুগ। পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নতির ধারণা এখন বিশ্বের সর্বত্র গুরুত্ব পাচ্ছে। আর ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাঝামাঝি।

এ কারণে বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় বাংলাদেশ ভূ-অর্থনৈতিকভাবে এমন একটি অবস্থানে রয়েছে যা অর্থনৈতিক উন্নতির গতিকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থানগত এ সুবিধাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির বিকল্প নেই।

বস্তুত যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি দেশের অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দেশের অভ্যন্তরে এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা যে দেশের যত উন্নত, সেদেশ ততই উন্নতি লাভ করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সেদিক থেকে বর্তমান সরকার যোগাযোগ খাতে যে মনোযোগ দিয়েছে তা প্রশংসার যোগ্য। আমাদের আকাশপথের পরিবহন ব্যবস্থায় শুরুতে তেমন অগ্রগতি না হলেও এখন এর উন্নতি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিমানবন্দর স্থাপন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বেড়েছে উড়োজাহাজের সংখ্যা। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরেই শুধু নয়, বিদেশের সঙ্গেও যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে আমাদের নীতিনির্ধারকরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন, এটাই কাম্য।

কেরানীগঞ্জ কারা কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থিত মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নিজের কারাবন্দি হওয়ার কথা তুলে ধরে বলেছেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের ক্ষমতার চেয়ার আর কারাগার খুব পাশাপাশি থাকে। যা খুব স্বাভাবিক।’ প্রধানমন্ত্রীর এ উপলব্ধিও প্রণিধানযোগ্য।

তার এ বক্তব্যের আলোকে প্রতিটি সরকারেরই উচিত এমনভাবে দেশ পরিচালনা করা, যাতে ক্ষমতা ত্যাগের পর কাউকে কারাগারে যেতে না হয়।

 

বিমান বহরে ‘ধ্রুবতারা’: প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য

 সম্পাদকীয় 
২৯ ডিসেম্বর ২০২০, ১২:০০ এএম  |  প্রিন্ট সংস্করণ

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার গণভবনে কর্মব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন। তিনি ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ২০টি ফায়ার স্টেশন, ছয়টি পাসপোর্ট অফিস, মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার, একটি এলপিজি স্টেশন এবং নতুন উড়োজাহাজ ‘ধ্রুবতারা’ উদ্বোধন করেছেন। এ সময় তিনি সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোতে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রেখেছেন।

বিমানের নতুন উড়োজাহাজ ড্যাশ ৮-৪০০ ‘ধ্রুবতারা’র উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা সেই সব বিমান ক্রয় করছি যেগুলো সব থেকে আধুনিক ও উন্নতমানের।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘নতুন উড়োজাহাজের মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের পাশাপাশি দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গেও আমরা যোগাযোগ বৃদ্ধি করতে সক্ষম হব।’

দেশের ভৌগোলিক অবস্থানের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ‘আমরা যদি আমাদের আশপাশের দেশগুলোর সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য এবং যোগাযোগ বাড়াতে পারি তাহলে সব দিক থেকে আমাদের উন্নতি হতে পারে।’ প্রধানমন্ত্রীর এ বক্তব্য প্রণিধানযোগ্য। বর্তমান সময়টি হল কানেকটিভিটির যুগ। পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে উন্নতির ধারণা এখন বিশ্বের সর্বত্র গুরুত্ব পাচ্ছে। আর ভৌগোলিকভাবে বাংলাদেশের অবস্থান দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মাঝামাঝি।

এ কারণে বাংলাদেশ ব্যবসা-বাণিজ্য, যোগাযোগ ও অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে রয়েছে সুবিধাজনক অবস্থায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় বাংলাদেশ ভূ-অর্থনৈতিকভাবে এমন একটি অবস্থানে রয়েছে যা অর্থনৈতিক উন্নতির গতিকে বাড়িয়ে দিতে পারে। ভৌগোলিক অবস্থানগত এ সুবিধাকে কাজে লাগাতে হলে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। সেক্ষেত্রে যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির বিকল্প নেই।

বস্তুত যোগাযোগ ব্যবস্থা একটি দেশের অর্থনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। দেশের অভ্যন্তরে এবং বহির্বিশ্বের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা যে দেশের যত উন্নত, সেদেশ ততই উন্নতি লাভ করবে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। সেদিক থেকে বর্তমান সরকার যোগাযোগ খাতে যে মনোযোগ দিয়েছে তা প্রশংসার যোগ্য। আমাদের আকাশপথের পরিবহন ব্যবস্থায় শুরুতে তেমন অগ্রগতি না হলেও এখন এর উন্নতি হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিমানবন্দর স্থাপন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রায়ত্ত বিমান সংস্থার পাশাপাশি বেসরকারি খাতেও বেড়েছে উড়োজাহাজের সংখ্যা। এর ফলে দেশের অভ্যন্তরেই শুধু নয়, বিদেশের সঙ্গেও যোগাযোগ বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে আমাদের নীতিনির্ধারকরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালাবেন, এটাই কাম্য।

কেরানীগঞ্জ কারা কমপ্লেক্স এলাকায় অবস্থিত মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগার উদ্বোধনকালে প্রধানমন্ত্রী এক-এগারোর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় নিজের কারাবন্দি হওয়ার কথা তুলে ধরে বলেছেন, ‘আমরা যারা রাজনীতি করি, আমাদের ক্ষমতার চেয়ার আর কারাগার খুব পাশাপাশি থাকে। যা খুব স্বাভাবিক।’ প্রধানমন্ত্রীর এ উপলব্ধিও প্রণিধানযোগ্য।

তার এ বক্তব্যের আলোকে প্রতিটি সরকারেরই উচিত এমনভাবে দেশ পরিচালনা করা, যাতে ক্ষমতা ত্যাগের পর কাউকে কারাগারে যেতে না হয়।

 

যুগান্তর ইউটিউব চ্যানেলে সাবস্ক্রাইব করুন